কলকাতা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬: আজ মুজফফর আহমেদ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি (ED) তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন।
সিপিআই(এম)-এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আজকের সাংবাদিক সম্মেলনের প্রধান বিষয়গুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
তদন্তে বাধার অভিযোগ: মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন যে, একটি তদন্তকারী সংস্থা যখন তল্লাশি চালাচ্ছে, তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে কার্যত তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আই-প্যাকের দপ্তরে কী এমন নথি বা তথ্য লুকিয়ে আছে যে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে সেখানে ছুটে যেতে হলো? এটা কি দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা নয়?"
'ভাইপো' ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশির দাবি: সেলিম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেন যে, যদি মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেন এবং সেখান থেকে নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে যান, তবে ইডির উচিত অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি চালানো। তিনি বলেন, "শুধুমাত্র ধর্ণা দিয়ে নাটক না করে, সততা থাকলে তদন্তের মুখোমুখি হোন।"
বিজেপি-তৃণমূল 'সেটিং' তত্ত্ব: সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক ফের অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে গোপন বোঝাপড়া বা 'সেটিং' রয়েছে। তিনি বলেন, "দিল্লিতে দোস্তি আর বাংলায় কুস্তি—এই নীতিতেই চলছে দুই দল। কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো লোক দেখানো হানা দিচ্ছে, কিন্তু রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানেন তাকে কেউ ছোঁবে না, তাই তিনি এতটা বেপরোয়া।"
পরিযায়ী শ্রমিক ও রাজ্যের হাল: রাজনৈতিক তরজার বাইরেও সেলিম রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। মালদহে তৃণমূলের সভার পাল্টা তিনি বলেন, "রাজ্যে কাজ নেই, তাই লক্ষ লক্ষ যুবক ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। আর এখানে সরকার উৎসব আর চুরিতে ব্যস্ত।"
মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল ও বিজেপির এই "নাটক" মানুষ ধরে ফেলেছে এবং আগামী দিনে সিপিআই(এম) এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।


