নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: কলকাতার রুবি হাসপাতালের অদূরে নাজিরাবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘ওয়াও মোমো’-র কারখানায় এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২৩ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ এবং গ্যাস সিলিন্ডার মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ততক্ষণে কারখানার ভেতরটা কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একের পর এক দগ্ধ দেহ বের করে আনছেন।
এই ভয়াবহ ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সিআইটিইউ (CITU) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির নেতৃত্ব। তাঁরা উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও মালিকপক্ষের গাফিলতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বালাই ছিল না এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার ন্যূনতম তোয়াক্কা করা হয়নি।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সিআইটিইউ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. মৃত শ্রমিকদের পরিবারবর্গকে অবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. নিহতদের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি প্রদান করতে হবে।
৩. এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সিআইটিইউ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানা হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে শ্রমিক সংগঠন। আপাতত গোটা নাজিরাবাদ এলাকা জুড়ে স্বজনহারাদের কান্না এবং চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।