" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory মাদুরোকে 'অপহরণের' পরেই আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ভেনেজুয়েলা: এ কি কৌশল, নাকি আপস? //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

মাদুরোকে 'অপহরণের' পরেই আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ভেনেজুয়েলা: এ কি কৌশল, নাকি আপস?

 



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১০ জানুয়ারি ২০২৬: এক নজিরবিহীন এবং নাটকীয় মোড় নিল ভেনেজুয়েলার রাজনীতি। গত ৩রা জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই, কারাকাস আমেরিকার সাথে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই রাজনৈতিক আত্মসমর্পণ বা 'ক্যু' নয়, বরং এটি তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক কৌশলগত লড়াই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত ৩রা জানুয়ারি ভোরে এক ঝটিকা অভিযানে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তাঁরা নিউইয়র্কে বন্দি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তাঁরা ইতিমধ্যেই অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে করা হয়েছিল যে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। কিন্তু শুক্রবার ভেনেজুয়েলা সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ওয়াশিংটনের সাথে একটি "অনুসন্ধানমূলক প্রক্রিয়া" (exploratory process) শুরু করতে চায়।

কেন এই উলটপুরাণ?

সাধারণ দৃষ্টিতে এটি অদ্ভুত মনে হতে পারে। যে দেশ আপনার রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে গেল, তাদের সাথেই আবার আলোচনার প্রস্তাব? কিন্তু ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—

১. আগ্রাসনের জবাব: কারাকাস এই ঘটনাকে "বেআইনি এবং অপরাধমূলক আগ্রাসন" এবং প্রেসিডেন্টকে "অপহরণ" বলে অভিহিত করেছে। তারা জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই তারা এই অপহরণ এবং আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে চায়।

২. বলিভারিয়ান শান্তি কূটনীতি: ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, তারা জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং শান্তির নীতি মেনেই আলোচনার টেবিলে বসতে চায়।

৩. মাদুরোর মুক্তি ও অন্যান্য ইস্যু: আমেরিকার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে তারা সরাসরি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আটকের বিষয়টি এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে দরাদরি করতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো বিহীন ভেনেজুয়েলায় টিকে থাকার জন্য জিও-পলিটিক্যাল বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো আপস করছে না সরকার। বরং সরাসরি আমেরিকার চোখে চোখ রেখে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে মাদুরোকে ফিরিয়ে আনার এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই এই অভাবনীয় চাল চেলেছে তারা।

পরবর্তী পদক্ষেপ

নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পাশাপাশি, এখন দেখার বিষয় ওয়াশিংটন এই কূটনৈতিক প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেয়। ভেনেজুয়েলার এই পদক্ষেপ কি সত্যিই তাদের নেতাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি এটি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে আরও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা সময় বলবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies