" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory অধিকারের অন্তিম লড়াই: ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘট ও একটি জাতির আর্তনাদ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

অধিকারের অন্তিম লড়াই: ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ধর্মঘট ও একটি জাতির আর্তনাদ

 


২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। ভারতের শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্রই আজ এক অস্থির নীরবতা আর প্রস্তুতির প্রতিধ্বনি। যখন সরকার এবং কর্পোরেট জগত উন্নতির সূচক নিয়ে ব্যস্ত, তখন দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত শ্রমিক ও কৃষকরা রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ধর্মঘট কেবল একদিনের কর্মবিরতি নয়, এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা বঞ্চনার এক সম্মিলিত বিস্ফোরণ।




১. শ্রম কোড বনাম অস্তিত্বের সংকট (The Battle for Labor Rights)

ভারতের প্রধান কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো (Central Trade Unions - CTUs) দাবি করেছে যে, সরকার প্রবর্তিত চারটি নতুন শ্রম কোড—Code on Wages (মজুরি কোড), Industrial Relations Code (শিল্প সম্পর্ক কোড), Social Security Code (সামাজিক সুরক্ষা কোড) এবং OSH Code (পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য কোড)—শ্রমিকদের সুরক্ষাকবচ কেড়ে নিয়েছে।

  • আবেগঘন প্রেক্ষিত: যেখানে ৩০০ জন পর্যন্ত কর্মী বিশিষ্ট কারখানায় সরকার ছাড়াই ছাঁটাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে একজন মধ্যবিত্ত শ্রমিকের রাতের ঘুম উবে গেছে। এই ধর্মঘট সেই হাহাকার থেকেই জন্ম নিয়েছে।



২. অন্নদাতার দীর্ঘশ্বাস: কৃষি ও গ্রামীণ ভারতের দাবি

ধর্মঘটে সংহতি জানিয়েছে Samyukta Kisan Morcha (SKM) বা সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। তারা সরব হয়েছে MGNREGA (মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট) পূর্ণবহাল এবং প্রস্তাবিত Electricity (Amendment) Bill 2025-এর বিরুদ্ধে।



  • পেশাদার বিশ্লেষণ: কৃষকদের আশঙ্কা, নতুন Seed Bill (বীজ বিল) তাদের নিজস্ব বীজ ব্যবহারের স্বাধীনতা কেড়ে নেবে এবং চাষীদের কর্পোরেটদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে।

৩. বার্ধক্যের হাহাকার: OPS ও ৮ম পে কমিশন

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো বিশেষ করে NFIR (National Federation of Indian Railwaymen) এবং AIDEF (All India Defence Employees' Federation) এই ধর্মঘটে শামিল হয়েছে। তাদের মূল দাবি:

  • Old Pension Scheme (OPS): ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) বাতিল করে পুরানো পেনশন চালু করা।

  • 8th Pay Commission: ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২০% অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি (Interim Relief) এবং ডিএ (DA) মার্জার।




আন্দোলনের প্রধান কুশীলব ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনসমূহ

এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ভারতের দশটি শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং শত শত স্বতন্ত্র ফেডারেশন। প্রধান সংগঠনগুলো হলো



:

সংগঠনের নাম (Full Form)মূল ভূমিকা
INTUC (Indian National Trade Union Congress)কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন।
CITU (Centre of Indian Trade Unions)বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন, শিল্পাঞ্চলে যাদের শক্তিশালী ভিত্তি।
AITUC (All India Trade Union Congress)ভারতের প্রাচীনতম শ্রমিক সংগঠন।
HMS (Hind Mazdur Sabha)সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী শ্রমিক ইউনিয়ন।
AIUTUC (All India United Trade Union Centre)অসংগঠিত শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরব।
AIBEA (All India Bank Employees' Association)ব্যাংক ধর্মঘটের প্রধান আহ্বায়ক।






সম্ভাব্য প্রভাব: স্থবির হতে পারে জনজীবন

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ কোটি শ্রমজীবী মানুষ অংশ নিতে পারেন।

  • পরিবহন: রেলওয়ে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহনের চাকা থমকে যেতে পারে।

  • অর্থনীতি: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (PSB) এবং বিমা (LIC) সংস্থার পরিষেবা ব্যাহত হবে।

  • মানবিক দিক: শহরের রাস্তায় যখন ওলা-উবার বা সুইগি-জোম্যাটো ডেলিভারি বয়দের দেখা যাবে না, তখন বোঝা যাবে 'গিগ ইকোনমি'-র শ্রমিকরা কতটা কষ্টে আছেন।

সতর্কবার্তা: জনগণের দুর্ভোগ কমাতে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং জীবনদায়ী ওষুধের দোকানকে এই ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।






Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies