শিল্পের মহামিলন: প্রাণের স্পন্দনে দুর্গাপুর
রবিবার দুপুরে যখন শহরের তপ্ত রাজপথ কিছুটা শান্ত, ঠিক তখনই শ্রীজানি অডিটোরিয়ামের চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে আগামীর শিল্পীদের কলতানে। আজকের দিনটি শুধু একটি প্রতিযোগিতার ছিল না, এটি ছিল সৃষ্টির আনন্দে মেতে ওঠার এক মহোৎসব।
অনুষ্ঠানের কিছু বিশেষ মুহূর্ত:
উদ্বোধন: অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। শহরের প্রাক্তন মেয়র শ্রী রথীন রায় মহাশয় প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মহতী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তাঁর উপস্থিতি গোটা অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।
সম্মানিত অতিথি: অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের বর্তমান প্রশাসনিক প্রধান শ্রীমতি অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক কথাগুলো কচি-কাঁচাদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
শিল্পীদের সমাগম: আমাদের শহরের গর্ব, বিশিষ্ট শিল্পী রিন্টু চৌধুরী মহাশয় সহ শহরের বহু স্বনামধন্য ও গুণী শিল্পী আজকের এই আয়োজনকে অলঙ্কৃত করেন।
অংশগ্রহণ ও উন্মাদনা
এই উৎসবে শিল্পানুরাগীদের ঢল ছিল দেখার মতো। প্রায় ১৮০ জন খুদে ও তরুণ শিল্পী তাদের তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে আগামীর স্বপ্ন। এছাড়া, নির্দিষ্ট একটি বিশেষ কর্মশালায় (Workshop) অংশগ্রহণ করেছিলেন ২১ জন প্রশিক্ষণার্থী, যারা অভিজ্ঞ শিল্পীদের সান্নিধ্যে শিল্পের সূক্ষ্ম কারুকার্য রপ্ত করার সুযোগ পেয়েছেন।
"শিল্পই মানুষের মনকে সুন্দর করে, আর আজকের এই ভিড় প্রমাণ করে দিল যে দুর্গাপুর আজও শিল্পের সাধনায় বিশ্বাসী।" — এক উপস্থিত অভিভাবকের আবেগঘন উক্তি।
প্রতিযোগিতার বিভাগ ও বিষয়:
অংশগ্রহণকারীদের বয়সের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়েছিল, যার বিষয়গুলি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
গ্রুপ A (Class II পর্যন্ত): যেমন খুশি তেমন আঁকো।
Class III থেকে V: গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ।
Class VI থেকে VIII: পরিবেশ সচেতনতা।
Class IX থেকে XII: আমার চোখে আমার দেশ।
সবশেষে, বিজয়ীদের হাতে '৬ষ্ঠ ডাইমেনশন'-এর পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা ও প্রশংসাপত্র। হার-জিত বড় কথা নয়, বরং শিল্পের প্রতি এই যে ভালোবাসা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, তাই আজ জয়ী হয়েছে দুর্গাপুরের মাটিতে। '৬ষ্ঠ ডাইমেনশন' প্রমাণ করে দিল, সীমানা পেরিয়ে শিল্পই পারে মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে।এবারের পুরস্কার গুলো স্পনসর করে মালাভার গোল্ড নামক সংস্থা।
















