নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজ রবিবাসরীয় সকালে দুর্গাপুরের ক্রীড়া মানচিত্রে এক উজ্জ্বল অধ্যায় সংযোজিত হলো। দুর্গাপুর সাকা (SACAA) ক্লাবের ২৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং বিপুল উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। সকাল ৯টা বাজার আগেই মাঠের চারপাশ কানায় কানায় ভরে ওঠে খেলোয়াড় এবং দর্শকদের কলতানে।
পতাকা উত্তোলন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ক্লাবের সম্পাদক সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি ক্লাবের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসক অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "সাকা ক্লাব যেভাবে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রতিভাকে তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।"
স্মৃতিচারণায় প্রাক্তন ক্রীড়া সংগঠকরা
এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল ক্লাবের প্রাক্তন ক্রীড়া সংগঠকদের উপস্থিতি। মাঠের এক কোণে বসে প্রবীণ সংগঠকদের স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের লড়াই দেখে তারা যেমন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, তেমনি ক্লাবের দীর্ঘ ২৯ বছরের যাত্রাপথের বিভিন্ন চড়াই-উতরাইয়ের গল্প ভাগ করে নেন উপস্থিত সবার সাথে। তাদের অভিজ্ঞ পরামর্শ নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করে।
মাঠের লড়াই ও পারিবারিক আমেজ
বিভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীরা দৌড়, লং জাম্প এবং বিভিন্ন লৌকিক খেলাধুলায় অংশ নেয়। বিশেষ করে:
কচিকাঁচাদের দৌড়: এলাকার ছোট ছোট শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল সবচাইতে আকর্ষণীয়।
পরিবারের অংশগ্রহণ: শিশুদের উৎসাহ দিতে মাঠে হাজির ছিলেন তাদের অভিভাবকরা। পরিবারের সদস্যদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রতিযোগিতাটিকে একটি ঘরোয়া উৎসবের চেহারা দিয়েছিল।
২৯ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় সাকা ক্লাব দুর্গাপুরের ক্রীড়া সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের সফল আয়োজন প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং প্রাক্তন ও বর্তমানের মেলবন্ধন থাকলে যেকোনো সংস্থাই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য ক্রীড়া মহোৎসব।











