" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory কলম ধরো অন্যায়ের বিরুদ্ধে: দুর্গাপুরে জনবাদী লেখক সংঘের সম্মেলনে প্রতিবাদের বজ্রনিঘোষ //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

কলম ধরো অন্যায়ের বিরুদ্ধে: দুর্গাপুরে জনবাদী লেখক সংঘের সম্মেলনে প্রতিবাদের বজ্রনিঘোষ

 


নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শিল্পশহর দুর্গাপুরের আকাশে আজ কেবল কারখানার ধোঁয়া নয়, ধ্বনিত হলো অধিকার আদায়ের অদম্য সুর। আজ দুর্গাপুর ইউ.সি.ডব্লিউ ইউনিয়ন কার্যালয় চত্বর সাক্ষী থাকল এক অনন্য লড়াইয়ের—যে লড়াই কলম দিয়ে অন্যায়ের বুক চিরে সত্য তুলে ধরার। জনবাদী লেখক সংঘ (জলেস), পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির ষষ্ঠ জেলা সম্মেলন আজ এক আবেগময় পরিবেশে সুসম্পন্ন হলো।



স্মৃতি ও শ্রদ্ধার আবহে শুরু


সম্মেলন কক্ষটি উৎসর্গ করা হয়েছিল প্রয়াত প্রাক্তন সম্পাদক ডাঃ সন্তরামের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে যখন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, তখন উপস্থিত প্রত্যেকের চোখেমুখে ছিল হারানো সহযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা আর আগামীর লড়াইয়ের সংকল্প। সভার শুরুতেই শোকপ্রস্তাব পেশ করেন রাজেশ্বর শর্মা। এরপর ‘সেতু’ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উদ্বোধনী সংগীতের মূর্ছনা উপস্থিত প্রতিনিধিদের হৃদয়ে এক অন্যরকম উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে।




অধিকার আদায়ের ডাক


রাজ্য কমিটির প্রতিনিধি দিনেশ ঝায়ের হাত ধরে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। খসড়া প্রস্তাব পেশ করেন ডাঃ অরুণ কুমার পাণ্ডে। সম্মেলনের প্রতিটি ছত্রে উঠে আসে বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তব—

  • মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার।

  • ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।

  • দলিত, সংখ্যালঘু এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংহতি।

  • শ্রমিক স্বার্থবিরোধী লেবার কোডের তীব্র বিরোধিতা এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটকে সর্বাত্মক সমর্থনের ডাক।







সংহতির মিলনমেলা

এই সম্মেলনে কেবল সাহিত্যিকরা নন, সংহতি জানাতে শামিল হয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রগতিশীল মানুষ। পশ্চিম বঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের অনুপ মিত্র, আইপিটিএ (IPTA)-র আশীষ তরু চক্রবর্তী, আদিবাসী লোকশিল্পী সংঘের গোপীনাথ মুর্মু এবং বিজ্ঞান মঞ্চের ধনুর্ধারী রায়ের বক্তব্য এক সুরেলা প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে।


আগামীর কাণ্ডারি


সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন জেলা কমিটি গঠন করা হয়। আগামীর লড়াইকে নেতৃত্ব দিতে নির্বাচিত হলেন:

  • সভাপতি: তারকেশ্বর পাণ্ডে

  • কার্যকরী সভাপতি: জিতেন্দ্রনাথ উপাধ্যায়

  • সম্পাদক: অরুণ কুমার পাণ্ডে

  • কোষাধ্যক্ষ: বিজয় ঠাকুর

সম্মেলনের শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের চোখেমুখে ছিল এক দৃঢ় প্রত্যয়—শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কলম সচল থাকবেই। কারণ, কলম যখন শাণিত হয়, তখন শোষকের সিংহাসন কেঁপে ওঠে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies