কারাকাস, ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সম্প্রতি একটি সাধারণ ক্ষমা বিল ঘোষণা করেছেন, যার ফলে শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও মানবিক পদক্ষেপ
৩১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এই ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা প্রস্তাব পেশ করেন। এই বিলের আওতায় ১৯৯৯ সাল থেকে রাজনৈতিক কারণে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে হত্যা বা দুর্নীতির মতো গুরুতর অপরাধীরা এর বাইরে থাকবে। ইতিমধ্যে ৩ শতাধিক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং কারাকাসের কুখ্যাত 'হেলিকয়েড' কারাগারটি বন্ধ করে সেটিকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফোরাম পেনাল-এর তথ্যমতে, ভেনেজুয়েলায় আটক সমস্ত মার্কিন নাগরিককেও ইতিমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন হস্তক্ষেপ ও তেল সংকটের প্রভাব
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর তাদের চাপ অব্যাহত রেখেছে। 'অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার'-এর অংশ হিসেবে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে মার্কিন কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনী। এর মধ্যে 'মারিনেরা' (পরবর্তীতে এম/ভি বেলা ১) নামক রুশ পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কার আটলান্টিক মহাসাগর থেকে আটক করা হয়, যাকে রাশিয়া "জলদস্যুতা" হিসেবে অভিহিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর মার্কিন প্রভাব কার্যকর রয়েছে এবং দেশটিতে পুনরায় মার্কিন দূতাবাস খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাডো মনে করেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণেই সরকার এই নমনীয়তা দেখাতে বাধ্য হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার তেল খাতের পুনর্গঠন নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনার পরিকল্পনা চলছে। আকাশপথ উন্মুক্ত করা এবং তেল খাতে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে বর্তমান প্রশাসন। তবে রাশিয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ মার্কিন এই পদক্ষেপকে "চুরি" বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানালেও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলা এখন এক নতুন রাজনৈতিক ভোরের অপেক্ষায় রয়েছে।


