" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory ভারতের খনিজ বিপ্লব: ২০২৬-২৭ বাজেটে 'ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর' ঘোষণার মাধ্যমে চীনকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

ভারতের খনিজ বিপ্লব: ২০২৬-২৭ বাজেটে 'ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর' ঘোষণার মাধ্যমে চীনকে টেক্কা দেওয়ার প্রস্তুতি

 



নয়াদিল্লি | ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভারতের শিল্প ও জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে 'ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর' (Dedicated Rare Earth Corridors) তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ওড়িশা, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর মতো খনিজ সমৃদ্ধ উপকূলীয় রাজ্যগুলোকে কেন্দ্র করে এই করিডোরগুলো গড়ে তোলা হবে। ভারতের এই উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিরল মৃত্তিকা উপাদান (Rare Earth Elements - REE) উত্তোলনে বিশ্ববাজারে চীনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করা এবং ভারতকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা।

খনিজ নিরাপত্তার নতুন রোডম্যাপ

বিরল মৃত্তিকা উপাদান যেমন নিওডিয়ামিয়াম, ল্যান্থানাম এবং সিরিয়াম আধুনিক প্রযুক্তির মেরুদণ্ড। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে উন্নত যুদ্ধবিমান—সবকিছুতেই এর প্রয়োজন অপরিসীম। বর্তমানে ভারতের এই খনিজের চাহিদার সিংহভাগ মেটায় চীন। বাজেটে ঘোষিত এই করিডোরগুলো মূলত বিচ স্যান্ড মিনারেলস (BSM) বা উপকূলীয় বালু খনিজ উত্তোলনে গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে মোনাজাইট সমৃদ্ধ বালু থেকে REE, ইউরেনিয়াম এবং থোরিয়াম আহরণ করে দেশীয় জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হবে।

২০২৫ সালের মেগা স্কিমের সাথে সমন্বয়

এই করিডোরগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়। এটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে সরকার ঘোষিত ৭,২৮০ কোটি টাকার 'সিন্টারড রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট' (REPM) উৎপাদন প্রকল্পের একটি বর্ধিত অংশ।

  • উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: বার্ষিক ৬,০০০ মেট্রিক টন (MTPA) সমন্বিত উৎপাদন ক্ষমতা।

  • ভর্তুকি ও ইনসেনটিভ: বিক্রয়ভিত্তিক প্রণোদনার জন্য ৬,৪৫০ কোটি টাকা এবং ক্যাপিটাল সাবসিডির জন্য ৭৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কেন এই করিডোর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বজুড়ে যখন ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়ছে, তখন বিরল খনিজের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

১. বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV): ইভি মোটরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী চুম্বক তৈরিতে এই খনিজ অপরিহার্য।

২. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম: মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম এবং রাডার প্রযুক্তিতে REE-এর কোনো বিকল্প নেই।

৩. সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষা: চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক শুল্ক যুদ্ধের মধ্যে ভারতের নিজস্ব সাপ্লাই চেইন থাকা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

এই মেগা করিডোরটি প্রধানত চারটি দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে:

  • ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ: এখানে বিশাল মোনাজাইট ভাণ্ডার রয়েছে, যা খনির মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।

  • কেরালা ও তামিলনাড়ু: এই রাজ্যগুলোতে উন্নত গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (R&D) এবং উৎপাদন ইউনিট স্থাপনে জোর দেওয়া হবে।

যদিও এই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা তাৎক্ষণিক বাজেটারি অ্যালোকেশন এখনও বিশদভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রত্যক্ষ সহায়তা রাজ্যগুলোর খনিজ উত্তোলন পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করবে।

ভারতের এই 'রেয়ার আর্থ করিডোর' কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক চাল। যদি ভারত সফলভাবে তার নিজস্ব বিরল খনিজ উত্তোলন এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে, তবে ২০৭০ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বিশ্ববাজারে হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে ভারতের উত্থান ঠেকানো অসম্ভব হবে।


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies