নয়াদিল্লি, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘কৃষি ও কৃষক বিরোধী’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালো নিখিল ভারত কিষাণ সভা (AIKS)। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই বাজেটে কৃষকদের আয় বাড়ানোর কথা কেবলই ফাঁকা প্রচার; বাস্তবে সার ভর্তুকি ছাঁটাই এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে কোপ বসিয়ে কৃষকদের চরম সঙ্কটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বাজেটের প্রতিলিপি পোড়ানোর ডাক দিয়েছে কিষাণ সভা।
বাজেটে কৃষি ব্রাত্য, উধাও কৃষি শ্রমিকদের উল্লেখ
কিষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন এবং সভাপতি অশোক ধাওয়ালে এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় দেশের মেরুদণ্ড কৃষিক্ষেত্রকে কার্যত অবহেলা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের কথা মাত্র একবার উল্লেখ করা হলেও, গ্রামীণ কৃষি শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ নীরব।
পরিসংখ্যানে বঞ্চনার চিত্র
সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি মূল পয়েন্টে বাজেটের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে:
সার ভর্তুকিতে বিপুল কোপ: গত অর্থবর্ষের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এবার সার ভর্তুকিতে ১৫,৬৭৯ কোটি টাকা ছাঁটাই করা হয়েছে। এর ফলে সারের দাম বাড়ার আশঙ্কায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ হ্রাস: যেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ১০,২৮১ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৯,৯৬৭ কোটি টাকা করা হয়েছে।
রাজ্যের ওপর আর্থিক বোঝা: নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘ভিবি-গ্রাম জি’ (VB-Gram G)-এর জন্য ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও, এর ৪০ শতাংশ (প্রায় ৬৩,৭৯৪ কোটি টাকা) খরচ রাজ্যগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিষাণ সভার দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত।
মনরেগা (MGNREGA) অবহেলিত: গ্রামীণ কর্মসংস্থানের গ্যারান্টি মনরেগা প্রকল্পের কোনো উল্লেখই নেই বাজেট বক্তৃতায়। ফলে গ্রামীণ শ্রমিকরা কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
আর্থিক সমীক্ষার সতর্কবার্তা উপেক্ষা
কেন্দ্রীয় সরকারের নিজস্ব আর্থিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কৃষির গড় বৃদ্ধির হার ৪.৪৫ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। শস্য উৎপাদনও নিম্নমুখী। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের ঋণ মকুব বা ফসলের ন্যায্য মূল্যের (MSP) কোনো গ্যারান্টি এই বাজেটে নেই।
আন্দোলনের ডাক
নিখিল ভারত কিষাণ সভা দেশের সমস্ত প্রান্তের কৃষকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে:
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: গ্রাম ও তহশিল স্তরে কৃষক-বিরোধী বাজেটের প্রতিলিপি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: এই জনবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে এবং নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে দেশজুড়ে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটকে ঐতিহাসিক সফল করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।


