নিজস্ব প্রতিবেদন | তিরুবনন্তপুরম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বাজেটে কেরালা রাজ্য সম্পূর্ণ 'উপেক্ষিত' হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল সিপিআইএম (CPIM)। সোমবার দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতি এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
মূল অভিযোগসমূহ:
সিপিআইএম কেরালা ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের বাজেটে রাজ্যটি চারটি প্রধান ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে:
আর্থিক বঞ্চনা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সংকট: অর্থ কমিশনের (Finance Commission) নির্ধারিত রাজ্যের প্রাপ্য লভ্যাংশ হিমায়িত করার ফলে কেরালা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে দলটি।
জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ হ্রাস: গ্রামীণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুদান এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থ ছাঁটাই করা হয়েছে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করবে।
পরিকাঠামো উন্নয়নে স্থবিরতা: কেরালার দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও এই বাজেটে AIIMS (এইমস) হাসপাতালের কোনো উল্লেখ নেই। এছাড়া প্রস্তাবিত বিশেষ রেল করিডোর এবং ভিঝিনজাম (Vizhinjam) বন্দর প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজ উপেক্ষা করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদের বেসরকারীকরণ: খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ক্ষেত্রটি বেসরকারি একচেটিয়া পুঁজি বা মনোপলি সংস্থাগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে কেরালা সরকার।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
পোস্টার এবং ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে কেরালা সিপিআইএম দাবি করেছে, "কেরালা আবারও বঞ্চিত"। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন সরকার এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে 'ন্যায়বিচারের' ডাক দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় বরাদ্দের এই অসম বণ্টনকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কেরালার ন্যায্য অধিকার আদায়ে এবং কেন্দ্রীয় এই "জনবিরোধী" বাজেটের প্রতিবাদে রাজ্যব্যাপী জনমত গঠন করা হবে।


