নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর মোদী সরকারের অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি. চিদম্বরম। তাঁর মতে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের পেশ করা এই বাজেট আদতে দিশাহীন এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো এড়িয়ে যাওয়ার একটি কৌশল মাত্র।
চিদম্বরম দাবি করেছেন, বাজেট পেশের আগে যে অর্থনৈতিক সমীক্ষা (Economic Survey) পেশ করা হয়েছিল, সেখানে উল্লেখিত অন্তত ১০টি গভীর সংকটের কোনো সমাধান এই বাজেটে নেই।
চিদম্বরমের সমালোচনার মূল দিকগুলো:
বেকারত্ব ও শিল্প সংকট: যুব বেকারত্ব দূরীকরণ এবং ধুঁকতে থাকা এমএসএমই (MSME) সেক্টরকে চাঙ্গা করার কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই।
চীন ও বাণিজ্য ঘাটতি: চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেট সম্পূর্ণ নীরব।
বিনিয়োগের অভাব: বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ টানতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফিসকাল কনসোলিডেশন: রাজকোষীয় ঘাটতি কমানোর গতিকে তিনি "যন্ত্রণাদায়কভাবে ধীর" বলে বর্ণনা করেছেন। চিদম্বরমের মতে, বর্তমান গতিতে চললে FRBM আইনের ৩ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও ১৩ বছর সময় লেগে যাবে।
"শব্দের কারসাজি, কাজের কাজ শূন্য"
চিদম্বরম এক সাক্ষাৎকারে কটাক্ষ করে বলেন, "মনে হচ্ছে অর্থনৈতিক সমীক্ষাটি কেউ পড়েই দেখেননি। শুধু নতুন নতুন স্কিম, প্রোগ্রাম আর মিশনের নাম দিয়ে শব্দের ফুলঝুরি ছোটানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজস্ব ও ব্যয়ের যে বিশাল ঘাটতি ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা বা সংশোধনী এই বাজেটে নেই।"
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও সোশ্যাল মিডিয়া
বাজেটের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চিদম্বরমের একটি ৫ মিনিটের বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর অর্থনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করলেও, বিজেপি সমর্থকরা পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ইউপিএ আমলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরে এনপিএ (NPA) সংকটের জন্য চিদম্বরম নিজেই দায়ী।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী এই বাজেটকে "অন্ধ বাজেট" বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও সরকার পক্ষ আত্মবিশ্বাসী। তাদের দাবি:
ক্যাপেক্স (Capital Expenditure): পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে।
লক্ষ্য: দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
চিদম্বরমের এই আক্রমণ বাজেট পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে যখন বিরোধীরা একে "কৌশলহীন" বলছেন, অন্যদিকে শাসক দল একে উন্নত ভারতের পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে।


