আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তজনা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই আহ্বান জানান।
আলোচনার ওপর জোর বেইজিংয়ের
সংবাদ সম্মেলনে মাও নিং বলেন, "চীন বর্তমান পরিস্থিতির বিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ ধৈর্য ধারণ করবে এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনে সচেষ্ট হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন যে, পরিস্থিতির অবনতি কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতাই বৃদ্ধি করবে, যা কোনো পক্ষের স্বার্থই রক্ষা করবে না।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ওয়াশিংটনের অবস্থান
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের সাথে চলমান আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে না আনলে ট্রাম্প বড় ধরনের হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি ইরানের ওপর ‘সীমিত পরিসরে’ হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।
ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচ্ছন্ন হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, "সীমিত হামলা বলে কিছু নেই; যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।" আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরান এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
মধ্যস্থতা: ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সময়সীমা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় ‘মারাত্মক পরিণতির’ হুমকি দিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট: ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক অবনতি ঘটছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনেভা বৈঠকটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিংয়ের এই আহ্বান বৈশ্বিক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


