আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে চীনা নববর্ষ। প্রাচীন লোকগাথা, পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সমৃদ্ধির কামনায় ঘেরা এই উৎসব ২০২৪ সালে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ বছর চীনা নববর্ষকে ইউনেস্কো (UNESCO) তাদের 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ' বা অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
উৎসবের নেপথ্যে 'নিয়ান' ও লোকগাথা
চীনা নববর্ষের মূলে রয়েছে এক প্রাচীন দানব 'নিয়ান'-এর গল্প। লোকগাথা অনুযায়ী, এই দানবকে তাড়াতেই লাল রঙের ব্যবহার এবং আতশবাজির প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে এটি কেবল ভয় তাড়ানোর উৎসব নয়, বরং পরিবার ও পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর এক মহিমান্বিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে।
খাবার যখন সৌভাগ্যের প্রতীক
চীনা নববর্ষের প্রতিটি খাবারেই লুকিয়ে থাকে বিশেষ অর্থ। এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো পরিবারের সকলে মিলে বিশেষ কিছু খাবার উপভোগ করা:
ডাম্পলিং (Jiaozi): এগুলো দেখতে প্রাচীন চীনা স্বর্ণমুদ্রার মতো, যা ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
আস্ত মাছ: চীনা ভাষায় 'মাছ' এবং 'উদ্বৃত্ত' শব্দ দুটির উচ্চারণ একই। তাই বছরের শেষ এবং শুরুর খাবারে আস্ত মাছ রাখা হয় যেন সারা বছর প্রাচুর্য বজায় থাকে।
লঞ্জিভিটি নুডলস: দীর্ঘায়ুর প্রতীক হিসেবে এই নুডলস না কেটে লম্বা রেখেই রান্না ও খাওয়া হয়।
মিষ্টি খাবার: আঠালো চালের কেক (Nian Gao) কর্মজীবনে উন্নতির প্রতীক এবং গোল মিষ্টি বল (Tang Yuan) পরিবারের ঐক্য ও পুনর্মিলন বোঝায়।
যা করা বারণ: উৎসবের কিছু কড়াকড়ি নিয়ম
চীনা সংস্কৃতিতে নববর্ষের সময় কিছু কাজকে অশুভ মনে করা হয়, যাতে সারা বছরের সৌভাগ্য রক্ষা পায়:
পরিচ্ছন্নতায় বাধা: নববর্ষের প্রথম দিন ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা আবর্জনা ফেলা নিষেধ, কারণ মনে করা হয় এতে ঘরের সৌভাগ্য বেরিয়ে যায়।
চুল কাটা বা ধোয়া: 'চুল' শব্দটির উচ্চারণ 'সম্পদ' শব্দের মতো। তাই নববর্ষের শুরুতে চুল ধোয়া বা কাটা মানে নিজের সম্পদকে ধুয়ে ফেলা বা কেটে ফেলা।
তীক্ষ্ণ যন্ত্রের ব্যবহার: কাঁচি বা ছুরির ব্যবহার এড়িয়ে চলা হয়, যাতে সম্পর্কের মধ্যে কোনো 'বিচ্ছেদ' না ঘটে।
কথাবার্তায় সতর্কতা: 'মৃত্যু', 'অসুখ' বা 'দারিদ্র্য'—এমন নেতিবাচক শব্দ উচ্চারণ করা এ সময় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি শিশুদের বকাঝকা করা বা কান্নাকাটিও অমঙ্গলের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
পোশাক ও সামাজিকতা
শোকের প্রতীক হিসেবে কালো বা সাদা পোশাক এড়িয়ে সকলে উজ্জ্বল লাল বা রঙিন পোশাক পরিধান করেন। একে অপরের থেকে টাকা ধার নেওয়া বা ঋণ ফেরত চাওয়ার মতো কাজগুলোও এ সময় স্থগিত রাখা হয় যেন আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে চীনা নববর্ষ আজ কেবল চীনের নয়, বরং ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


.png)
.png)
.png)
.png)
