মুম্বাই: মাঝসমুদ্রে টানটান উত্তেজনা! ঠিক যেন কোনো হলিউড থ্রিলার। এক গোপন ডেরায় হানা দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল পাচারকারী এক বিশাল সিন্ডিকেটের পর্দাফাস করল ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড (ICG)। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি মুম্বাই উপকূল থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে এক দুঃসাহসিক অভিযানে পাকড়াও করা হয়েছে তিনটি বিদেশি জাহাজকে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের 'রক্তাক্ত তেল' ও পাচারের ছক
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই চক্রটি মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে সস্তায় চোরাই তেল এবং তেলজাতীয় পণ্য সংগ্রহ করত। আন্তর্জাতিক জলসীমায় দাঁড়িয়ে অন্য বড় ট্যাঙ্কারে সেই তেল পাচার করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য।
ছদ্মবেশী জাহাজ: ধরা পড়ার ভয়ে এই জাহাজগুলো বারবার নিজেদের নাম এবং পরিচয় পরিবর্তন করত।
গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বিভিন্ন দেশের দালালরা মিলে এই সিন্ডিকেট চালাত, যাতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের আইন তাদের নাগাল না পায়।
শুল্ক ফাঁকি: ভারতসহ বিভিন্ন উপকূলীয় রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালানো হচ্ছিল।
প্রযুক্তির জালে আটকা পড়ল ‘জলদস্যুরা’
কোস্ট গার্ডের অত্যাধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স এই জালিয়াতি ধরে ফেলে। একটি মোটর ট্যাঙ্কারের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে কোস্ট গার্ডের বিশেষজ্ঞরা 'ডেটা প্যাটার্ন অ্যানালিসিস' শুরু করেন। দেখা যায়, আরও দুটি জাহাজ সেই ট্যাঙ্কারের দিকে এগোচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র ও আকাশপথে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়।
দুঃসাহসিক বোর্ডিং অপারেশন
৫ই ফেব্রুয়ারি আইসিজি-র স্পেশালিস্ট টিম উত্তাল সমুদ্রে চলন্ত জাহাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাহাজে তল্লাশি চালিয়ে এবং ক্রুদের জেরা করে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ হাতে আসে। ইলেকট্রনিক ডেটা এবং নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, এই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের এক গভীর জাল বুনেছিল।
"ভারত যে সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম রক্ষায় আপসহীন—এই অপারেশন আবারও তা প্রমাণ করল," জানিয়েছে কোস্ট গার্ড কর্তৃপক্ষ।
আটক করা তিনটি জাহাজকে মুম্বাই বন্দরে নিয়ে আসা হচ্ছে। জাহাজ মালিকরা ভিনদেশের নাগরিক বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা এবং বিশদ তদন্তের জন্য জাহাজগুলোকে ইন্ডিয়ান কাস্টমস এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে।




