ইতিহাস সবসময় বড় কোনো বিস্ফোরণ দিয়ে শুরু হয় না; অনেক সময় এটি শুরু হয় খুব সাধারণ একটি সিদ্ধান্ত থেকে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ (Butterfly Effect)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্তমানের কোনো একটি ছোট ঘটনা ভবিষ্যতের কোনো বড় ঘটনার কারণ হতে পারে।
বাটারফ্লাই ইফেক্ট কী?
একটি প্রজাপতির ডানার ঝাপটানি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বিশাল এক ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করতে পারে—এই রূপক থেকেই বাটারফ্লাই ইফেক্ট কথাটি এসেছে। অর্থাৎ, একটি অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তন সময়ের ব্যবধানে বিশাল ও অবিশ্বাস্য প্রভাব ফেলতে পারে।
হিটলারের জীবনের সেই এক সিদ্ধান্ত
১৯০৭ সালের কথা। অস্ট্রিয়ার ১৮ বছর বয়সী এক যুবক ভিয়েনার ‘ফাইন আর্টস একাডেমি’তে ভর্তির আবেদন করেন। তার স্বপ্ন ছিল একজন বড় চিত্রশিল্পী হওয়া। কিন্তু একাডেমি কর্তৃপক্ষ তার আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে।
সেই প্রত্যাখ্যাত হওয়া যুবকটিই ছিলেন এডলফ হিটলার। ইতিহাসের মোড় ঘোরানো বাটারফ্লাই ইফেক্ট শুরু হয়েছিল ঠিক এখান থেকেই।
যদি সেদিন তিনি চিত্রশিল্পী হতেন?
গবেষকদের মতে, হিটলার যদি সেদিন একাডেমিতে সুযোগ পেতেন, তবে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো:
তিনি সম্ভবত রাজনীতিতে আসতেন না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ভয়াবহ ধ্বংসলীলা হয়তো ঘটতো না।
লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বেঁচে যেতে পারতো।
কিন্তু সেই প্রত্যাখ্যান তাকে হতাশ ও তিক্ত করে তোলে। গৃহহীন অবস্থায় রাস্তায় কাটানো দিনগুলো তার ভেতরে ক্ষোভ আর উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীকালে তাকে একজন একনায়ক হিসেবে গড়ে তোলে।
"ইতিহাস বিস্ফোরণ দিয়ে শুরু হয় না; এটি শুরু হয় ছোট ছোট সিদ্ধান্ত দিয়ে।"
বাটারফ্লাই ইফেক্ট আমাদের শেখায় যে, একটি ছোট সিদ্ধান্ত বা ঘটনা গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। হিটলারের সেই প্রত্যাখ্যানই ছিল আজকের আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র এবং ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার প্রথম ধাপ।




