নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) এবং এসএফআই (SFI)-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রেশ এবার আছড়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে বাম ছাত্র সংগঠনকে কার্যত ‘সতর্কবার্তা’ দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে দানা বাঁধছে বিতর্ক।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ ক্যাম্পাসে পোস্টার দিচ্ছিল এসএফআই। অভিযোগ, টিএমসিপি সমর্থকরা সেই পোস্টার ছিঁড়ে দেয় এবং প্রতিবাদ করতে গেলে এসএফআই কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী জখম হন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। এর প্রতিবাদে এসএফআই পাল্টা প্রতিরোধের ডাক দেয়, যার প্রতিফলন দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে।
কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট ও ‘হুমকি’
ভাইরাল হওয়া পোস্টে কুণাল ঘোষ ২০১১ সালের পরিবর্তনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লেখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন বিজয় মিছিলের বদলে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশ দিয়ে বাম আমলের ‘গুণ্ডাদের’ জনরোষ থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেন:
"তৃণমূল যদি রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিদ্ধান্ত বদল করে, তখন কী হবে? তখন তো এদের অন্য দলের বাড়ি, হোটেলে ছুটতে হবে আশ্রয় খুঁজতে।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিচ্ছিন্ন গোলযোগে কৃতিত্ব দেখাতে গেলে "মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা" থাকবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি সরাসরি এসএফআই নেতৃত্বকে দেওয়া একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি।
বামেদের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত?
বিশ্লেষকদের মতে, কুণাল ঘোষের মতো শীর্ষস্থানীয় নেতার এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, ক্যাম্পাসে বামেদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা তৃণমূলকে বিড়ম্বনায় ফেলছে। দীর্ঘদিন পর কলকাতার কলেজগুলোতে এসএফআই-এর এই ‘পাল্টা প্রতিরোধ’ এবং পোস্টার আন্দোলন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলার ছাত্র রাজনীতিতে বামেরা আবার তাদের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এসএফআই নেতৃত্ব পাল্টা দাবি করেছে যে, ভয় দেখিয়ে তাদের আন্দোলন দমানো যাবে না। কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য আসলে তৃণমূলের "হারানোর ভয়" থেকেই জন্মেছে বলে তারা মনে করছে।



