মুম্বই: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিলের সিদ্ধান্ত। গত ১৬-১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০Check ২৬ তারিখে রাজ্য সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগ একটি সরকারি প্রস্তাব (GR) জারি করে ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক অধ্যাদেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাহিত করল। সরকারের দাবি এটি কেবল একটি 'প্রশাসনিক সংশোধন', কিন্তু বিরোধীদের মতে এটি সংখ্যালঘু অধিকারের ওপর এক চরম আঘাত।
আইনি মারপ্যাঁচে এক দশকের লড়াই
২০১৪ সালে তৎকালীন কংগ্রেস-এনসিপি সরকার সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে অনগ্রসর (SEBC) ক্যাটাগরির অধীনে মুসলিমদের জন্য এই ৫ শতাংশ কোটা চালু করেছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি-শিবসেনা জোট ক্ষমতায় এলে সেই অধ্যাদেশ আর আইনে রূপান্তরিত হয়নি।
বম্বে হাইকোর্টের অবস্থান: আদালত সংরক্ষণের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থগিতাদেশ দিলেও, শিক্ষার ক্ষেত্রে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা মেনে নিয়েছিল।
বিজেপি সরকারের যুক্তি: দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন সরকার বরাবরই ধর্মীয় ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিরোধিতা করে এসেছে। বর্তমান মহাজুটি সরকারের মতে, যেহেতু ২০১৪-র অধ্যাদেশটি আইনি বৈধতা হারিয়েছে, তাই নথিপত্র পরিষ্কার করতেই এই বাতিলকরণ।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত? কারা সুরক্ষিত?
এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন:
মুসলিম ওবিসি (OBC): আনসারি, কুরাইশি, পিনজারা বা জুলাইয়াদের মতো প্রায় ২২টি মুসলিম উপজাতি যারা আগে থেকেই ওবিসি তালিকায় আছে, তাদের বিদ্যমান ২৭ শতাংশ কোটা অপরিবর্তিত থাকছে।
সেক/পাঠান/মণিয়ার: যারা কোনো সংরক্ষিত শ্রেণির আওতায় নেই (Open Category), তাদের জন্য বিশেষ ৫ শতাংশ ‘মুসলিম কোটা’ পাওয়ার আশা এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত শেষ হয়ে গেল।
সার্টিফিকেট বাতিল: ২০১৪ সালের ওই ৫ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে যারা জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করেছিলেন, সরকারের নতুন নির্দেশে সেগুলি এখন অবৈধ বলে গণ্য হবে।
রাজনৈতিক বারুদ: 'রমজান গিফট' বনাম 'সবকা বিকাশ'
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের বিরোধী শিবির একযোগে সরব হয়েছে।
কংগ্রেসের তোপ: মুম্বই কংগ্রেসের নেত্রী বর্ষা গায়কোয়াড় প্রশ্ন তুলেছেন, "যদি মারাঠা সম্প্রদায়কে সংরক্ষণ দেওয়া যায়, তবে মুসলিমদের কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে?" তিনি একে 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ' স্লোগানের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
AIMIM-এর কটাক্ষ: প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিল বিদ্রুপ করে এই সিদ্ধান্তকে মুসলিমদের জন্য সরকারের দেওয়া 'রমজান উপহার' বলে অভিহিত করেছেন।
সরকারের পাল্টা যুক্তি: বিজেপি ও একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীর দাবি, তারা ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং পিছিয়ে পড়া জাতির ভিত্তিতে সংরক্ষণে বিশ্বাসী। তাদের মতে, মুসলিম সমাজের অনগ্রসর অংশ ইতিমধ্যেই ওবিসি কোটার সুবিধা পাচ্ছে।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি
| বিভাগ | বর্তমান অবস্থা |
| মুসলিম ওবিসি | সুরক্ষিত (২৭% ওবিসি কোটার অংশ হিসেবে) |
| বিশেষ ৫% মুসলিম কোটা | সম্পূর্ণ বাতিল |
| আইনি ভিত্তি | ২০১৪-র অধ্যাদেশ এখন অকার্যকর |
| প্রভাব | উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুবিধা বন্ধ |


