নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেলে শপথ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত নতুন সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় আয়োজিত এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি চমক হিসেবে এসেছেন বেশ কয়েকজন টেকনোক্র্যাট ও তরুণ মুখ। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৪৯ জন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
পূর্ণ মন্ত্রীদের তালিকা ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরসমূহ:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের অধীনে রেখেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো পেয়েছেন:
| মন্ত্রী | মন্ত্রণালয়/বিভাগ |
| মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় |
| আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | অর্থ ও পরিকল্পনা |
| সালাহউদ্দিন আহমেদ | স্বরাষ্ট্র |
| ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ |
| মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক |
| ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) | পররাষ্ট্র |
| এ এন এম এহসানুল হক মিলন | শিক্ষা |
| আব্দুল আউয়াল মিন্টু | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন |
| আরিফুল হক চৌধুরী | শ্রম ও কর্মসংস্থান |
| কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | ধর্ম বিষয়ক |
প্রতিমন্ত্রী ও তরুণ নেতৃত্বে চমক:
নতুন সরকারে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং ববি হাজ্জাজ-এর মতো নতুন প্রজন্মের নেতাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকরা একে বাংলাদেশের রাজনীতিতে "জেনারেশন শিফট" হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আওয়ামী লীগের জন্য কি ‘ফেয়ার চান্স’ আসছে?
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৫-এ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর এটিই প্রথম নির্বাচিত সরকার। তবে তারেক রহমানের বিজয়ী ভাষণে "প্রতিহিংসার বদলে ইনসাফ" এবং "জাতীয় ঐক্যের" ডাক রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ কি মূলধারায় ফিরতে পারবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগকে ফেরার সুযোগ দিতে পারে:
আইনি সংস্কার ও মানবাধিকার: তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইমেজ গড়ার চেষ্টা করছেন। যদি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তবে তারা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ফেরার সুযোগ পেতে পারে।
ক্লিন ইমেজ নেতাদের সুযোগ: বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত নয় বা যারা বড় দুর্নীতির সাথে জড়িত নন, এমন আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনীতিতে থাকতে বাধা দেওয়া হবে না।
শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা: গণতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতে বিএনপি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের উদারপন্থী অংশকে একটি স্পেস দিতে পারে।
চ্যালেঞ্জ: তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ক্ষোভ এখনো স্তিমিত হয়নি। ফলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা তারেক রহমানের সরকারের জন্য একটি বিশাল রাজনৈতিক ঝুঁকিও হতে পারে।
শেষ কথা:
নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিন হবে এ দেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের প্রধান সময়। তারেক রহমান কি সত্যিই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়বেন, নাকি আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে মাঠের বাইরে রাখবেন—তা সময়ই বলে দেবে।


