ওয়াশিংটন ডি.সি. | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভেনেজুয়েলা সংকটের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এক সময়ের কট্টর সমালোচক এই দুই নেতার বর্তমান অবস্থানকে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ও কৌশলগত অবস্থান
বৈঠক শেষে দুই নেতাই আলোচনার ফলাফলকে ‘উৎপাদনশীল’ ও ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গুস্তাভো পেত্রোকে ‘টেরিফিক’ ও ‘গ্রেট’ বলে অভিহিত করে বলেন, “দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।”
পেত্রো এই বৈঠককে ‘আশাব্যঞ্জক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি মাদক চোরাচালান দমনে কলম্বিয়ার প্রচলিত ভূমিকার বাইরে গিয়ে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
“মাদকের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের প্রধান কেন্দ্রগুলো কলম্বিয়ায় নয়, বরং দুবাই, মাদ্রিদ এবং মিয়ামির মতো শহরে অবস্থিত। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এই অপরাধী চক্রের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা হস্তান্তর করেছি।”
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব
শীর্ষ সম্মেলনের রেশ কাটতে না কাটতেই কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বৈঠকের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী ক্যাটাতুম্বো অঞ্চলে ELN (National Liberation Army) গেরিলাদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি পেত্রোর সম্মতির ইঙ্গিতবাহী।
তবে এই সামরিক তৎপরতা কলম্বিয়ার চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে। দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট ‘গাল্ফ ক্ল্যান’ (Gulf Clan) কাতারে চলমান শান্তি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ট্রাম্প-পেত্রো নতুন নিরাপত্তা চুক্তি তাদের আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এক নজরে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক:
মাদক নীতি: মাদক পাচারের মূল হোতাদের ধরতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা: ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান।
প্রতীকী উপহার: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেত্রোকে একটি সিগনেচার লাল ‘MAGA’ টুপি উপহার দেন, যা দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বরফ গলার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাচ্ছে। পেত্রোর মতো একজন বামপন্থী নেতার সাথে ট্রাম্পের এই সমঝোতা ওয়াশিংটনের বাস্তববাদী রাজনীতির (Realpolitik) বহিঃপ্রকাশ। যদিও এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে একটি ‘ভঙ্গুর শান্তি’ স্থাপন করেছে, তবে কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও কার্টেলগুলোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।


