নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর | ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মাঠের সবুজ ঘাসে যখন বিকেলের নরম রোদ খেলা করছে, তখন গ্যালারি ভরা দর্শকদের হৃদস্পন্দন যেন মিশে গিয়েছিল ফুটবলের ছন্দে। আজ ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬; ভারতী ভলিবল ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক আবেগঘন ফুটবল প্রতিযোগিতা— 'এস, আর, দাস ও সবিতা ঘোষ স্মৃতি অনুর্ধ-১৭ ফুটবল প্রতিযোগিতা'। হারানো প্রিয়জনদের স্মৃতিতে নিবেদিত এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রতিযোগিতাই ছিল না, ছিল উদীয়মান প্রতিভাদের নিজেদের প্রমাণ করার এক বড় মঞ্চ।
ম্যাচের চালচিত্র: লড়াই যখন সমানে-সমান
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ— আয়োজক ভারতী ভলিবল ক্লাব এবং উখরা পূজারী ফুটবল ক্লাব একে অপরকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ ছিল। প্রথমার্ধের প্রথম দশ মিনিট ছিল মূলত মাঝমাঠের দখল নেওয়ার লড়াই। ভারতী ভলিবল ক্লাবের রক্ষণভাগ যখন ইস্পাতকঠিন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই কৌশলী আক্রমণে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করে উখরা পূজারী।
সুজিত ও নয়নের ম্যাজিক: ২-০ গোলের জয়
খেলার ২০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন উখরা পূজারী ক্লাবের ফরোয়ার্ড সুজিত মাঝি। মাঝমাঠ থেকে আসা একটি থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ছিটকে দিয়ে এক চমৎকার প্লেসিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি। ১-০ তে পিছিয়ে পড়ে ভারতী ভলিবল ক্লাব মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শেষলগ্নে যখন ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন উখরা পূজারীর হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন নয়ন বাদ্যকর। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো ভলি সরাসরি জালে আশ্রয় নিলে স্টেডিয়াম জুড়ে তখন শুধুই নীল-সাদা জার্সিধারীদের উল্লাস। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উখরা পূজারী ফুটবল ক্লাব।
পরাজিত দলের নায়ক: দীপ বিশ্বাস
ফলাফল উখরা পূজারীর পক্ষে গেলেও ম্যাচের আসল বিনোদন ছিল ভারতী ভলিবল ক্লাবের দীপ বিশ্বাস-এর পায়ে। মাঠের প্রতিটি প্রান্তে তার উপস্থিতি, নিখুঁত ড্রিবলিং আর দুর্দান্ত ড্রাইভ দর্শকদের বারবার উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে বাধ্য করেছে। তার এই লড়াইয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ ম্যাচ শেষে বিচারকরা তাকে 'বেস্ট প্লেয়ার' বা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করেন।
পুরস্কার বিতরণী ও বিশেষ অতিথি
খেলার শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এক বিশেষ ব্যক্তিত্ব। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন দুর্গাপুরের ইনকাম ট্যাক্স জয়েন্ট কমিশনার সুদীপ চ্যাটার্জি। পেশায় উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক হলেও ক্রীড়াজগতে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে; তিনি নিজেও একজন প্রাক্তন কৃতি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, "মাঠের লড়াই কেবল হার-জিতের নয়, এটি চরিত্র গঠনেরও জায়গা।" একজন প্রাক্তন খেলোয়াড়ের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে উচ্ছ্বসিত দেখায় তরুণ ফুটবলারদের।
সুষ্ঠু পরিচালনা
ম্যাচটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন প্রধান রেফারি বিশ্বজিত ভান্ডারী। তাকে প্রান্তরেখা থেকে যোগ্য সহযোগিতা করেন সহকারী রেফারি সন্ময় চট্টরাজ এবং তাপস কেশ। তাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার ম্যাচে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল।










