মেক্সিকো সিটি | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মেক্সিকোর সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং দুর্ধর্ষ মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা Cervantes, যিনি বিশ্বজুড়ে 'এল মেনচো' নামে পরিচিত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকান সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সরাসরি সহায়তায় পরিচালিত এই অপারেশনটি মেক্সিকোর ইতিহাসে অপরাধ দমনে অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই কিংপিনের মৃত্যুর পর তার প্রতিষ্ঠিত জলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (CJNG)-এর অভ্যন্তরে বড় ধরনের ক্ষমতার লড়াই এবং দেশজুড়ে সহিংসতার নতুন তরঙ্গ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
অভিযানের নেপথ্য ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
জলিস্কোর পাহাড়ি অঞ্চলে পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন ড্রোন এবং গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এল মেনচো দীর্ঘ এক দশক ধরে গ্রেপ্তারের হাত থেকে বাঁচতে দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকোর বিভিন্ন রাজ্যে সমন্বিতভাবে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ (Narcobloqueos) শুরু করে কার্টেল সদস্যরা।
সিজেএনজি (CJNG)-এর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব সংকট
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু কার্টেলটির কাঠামোতে একটি 'নেতৃত্বের শূন্যতা' (Leadership Vacuum) সৃষ্টি করেছে। সিজেএনজি একটি সুশৃঙ্খল এবং কর্পোরেট ধাঁচের অপরাধী সংগঠন হলেও এল মেনচোর ক্যারিশম্যাটিক ও নৃশংস নেতৃত্বই এর শাখাগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিল।
উত্তরাধিকারের দৌড়ে যারা এগিয়ে:
১. গনজালো মেন্ডোজা গায়তান ('এল সাপো'): কার্টেলের আর্থিক ও কৌশলগত পরিচালনার অন্যতম প্রধান কারিগর।
২. জুয়ান কার্লোস ভ্যালেন্সিয়া গনজালেস ('এল ০৩'): এল মেনচোর সৎ পুত্র এবং কার্টেলের এলিট সশস্ত্র ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার।
৩. আউডিয়াস ফ্লোরেস সিলভা ('এল জার্ডিনেরো'): আঞ্চলিক কমান্ডার এবং ফেন্টানাইল বাণিজ্যের অন্যতম মূল নিয়ন্ত্রক।
ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
এল মেনচোর পতন কেবল একটি অপরাধী গোষ্ঠীর ক্ষতি নয়, বরং এটি মেক্সিকোর সামগ্রিক অপরাধ মানচিত্র পুনর্গঠন করতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বী সিনালোয়া কার্টেলের সক্রিয়তা: এল মেনচোর মৃত্যুর সুযোগে মেক্সিকোর অপর বৃহত্তম অপরাধী গোষ্ঠী 'সিনালোয়া কার্টেল' হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারে, যার ফলে 'গ্যাং-ওয়ার' বা আন্তঃগোষ্ঠী লড়াই বৃদ্ধির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
ফেন্টানাইল পাচার: মার্কিন প্রশাসনের মতে, সিজেএনজি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইল পাচারের অন্যতম প্রধান উৎস। এল মেনচোর মৃত্যুতে এই সরবরাহ চেইন সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সংগঠনটির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর কারণে দ্রুত পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
বিশ্লেষণাত্মক সারণী: এল মেনচো পরবর্তী সিজেএনজি
| সম্ভাব্য ঝুঁকি | প্রভাবের ধরন | বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ |
| অভ্যন্তরীণ কোন্দল | অতি উচ্চ | বিভিন্ন আঞ্চলিক 'প্লাজা বস'দের মধ্যে নেতৃত্বের লড়াই হতে পারে। |
| সহিংসতা বৃদ্ধি | উচ্চ | প্রতিশোধ নিতে সরকারি স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঝুঁকি। |
| খণ্ডিতকরণ (Fragmentation) | মাঝারি | কার্টেলটি ভেঙে ছোট ছোট একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারে। |
| অর্থনৈতিক প্রভাব | নিম্ন | অর্থ পাচার ও মাদক ব্যবসা এতটাই সুসংগঠিত যে এটি বন্ধ হওয়া কঠিন। |
এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত বিজয়। তবে ইতিহাস বলে, একজন মাদক সম্রাটের পতন প্রায়শই আরও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করে। কার্টেলটি কি একজন নতুন একক নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ থাকবে, নাকি একাধিক ক্ষুদ্র ও অধিকতর হিংস্র উপদলে বিভক্ত হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মেক্সিকোর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বা কার্টেল উত্তরাধিকারীদের নিয়ে আরও বিস্তারিত প্রোফাইল কি আপনি জানতে চান?


