বিশেষ প্রতিবেদন | টেক ডেস্ক
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাত এক গভীর কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, যে এআই একসময় 'সহকারী' হিসেবে এসেছিল, তা এখন অনেক ক্ষেত্রে কর্মীর 'বিকল্প' হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ভারতের প্রধান শহরগুলোতে শিক্ষিত বেকারত্বের এক নতুন ঢেউ দেখা দিচ্ছে।
১. ছাঁটাইয়ের পরিসংখ্যান: ২০২৫-২৬ এর চিত্র
ইন্টেলিজেন্স (Intellizence) এবং ইটি (ET) রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের আইটি জায়ান্টগুলো ২০২৫ সাল থেকেই বড় আকারের ছাঁটাই শুরু করেছে:
TCS: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তাদের মোট জনবলের প্রায় ২% (প্রায় ১২,০০০ কর্মী) কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব: শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই সারা বিশ্বে ১.৭৭ লক্ষের বেশি টেক কর্মী কাজ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ সরাসরি এআই-চালিত অটোমেশনের শিকার।
নিভৃত ছাঁটাই (Silent Layoffs): প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিয়েও ভারতের অনেক মাঝারি ও বড় কোম্পানি প্রায় ৫০,০০০ কর্মীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
২. কেন কমছে জনবল? (ডেটা বিশ্লেষণ)
এআই এবং অটোমেশনের কারণে কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীবাহিনী পুনর্গঠন করছে।
| কারণ | প্রভাবের ধরণ |
| অটোমেশন | নিয়মমাফিক কাজ (Routine tasks) এখন মানুষের বদলে মেশিন করছে। |
| উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি | এআই ব্যবহারের ফলে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট লাইফসাইকেলে (SDLC) ১০-২০% দক্ষতা বেড়েছে, ফলে কম মানুষেই কাজ চলছে। |
| ব্যয় সংকোচন | কর্মীর বেতন ও ইনক্রিমেন্টের চেয়ে এআই টুলের বার্ষিক খরচ অনেক কম। |
| দক্ষতার অমিল | প্রচলিত কোডিং বা টেস্টিং জানা কর্মীদের চাহিদা কমেছে; এখন প্রয়োজন 'এআই স্পেশালিস্ট'। |
৩. সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বিভাগসমূহ
ন্যাসকম (Nasscom) এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের আইটি সেক্টরের প্রায় ৪০% কাজ অটোমেশনের প্রভাবে সরাসরি বদলে যাবে।
এন্ট্রি-লেভেল জব: নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সুযোগ কমেছে প্রায় ৩০-৩৫%, কারণ জুনিয়র লেভেলের কোডিং এবং ডেটা এন্ট্রি এখন এআই নিখুঁতভাবে করছে।
BPO ও কাস্টমার সাপোর্ট: চ্যাটবট এবং এআই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের কারণে এই খাতে কর্মসংস্থান হ্রাসের হার সর্বোচ্চ (প্রায় ৫০%)।
মিড-লেভেল ম্যানেজমেন্ট: আইএমএফ (IMF) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিভার মতে, এআই-এর প্রকারে মধ্যস্তরের কর্মীদের বেতন স্থবির হয়ে পড়ছে এবং কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
৪. আইএমএফ-এর 'সুনামি' সতর্কতা
২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে আইএমএফ প্রধান সতর্ক করে বলেছেন যে, এআই ভারতের শ্রমবাজারে একটি "সুনামি"র মতো আঘাত করতে পারে।
ভারতে কর্মসংস্থানের ওপর এআই-এর প্রভাব প্রায় ২৬% হতে পারে।
উন্নত অর্থনীতিতে এই হার ৬০% হলেও, ভারতের মতো জনবহুল দেশে ২৬% মানে কয়েক কোটি তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়া।
৫. বিপরীত চিত্র: নতুন কর্মসংস্থানের আশা বনাম বাস্তবতা
যদিও ন্যাসকম দাবি করছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে এআই ভারতে ৩৮ মিলিয়ন (৩.৮ কোটি) নতুন কাজ তৈরি করবে, কিন্তু বর্তমান কর্মীদের জন্য সেই পরিবর্তন সহজ নয়।
রিস্কিলিং গ্যাপ: ভারতের প্রায় ৬০-৬৫% কর্মীকে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
বেতন বৈষম্য: যারা এআই জানেন, তারা সাধারণ কর্মীদের চেয়ে ২৮% বেশি বেতন পাচ্ছেন, যা সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।


