নিজস্ব প্রতিবেদক, কৃষ্ণনগর:
চব্বিশের লোকসভা বা ছাব্বিশের বিধানসভা—প্রেক্ষাপট যাই হোক, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ (Krishnanagar Dakshin) এখন বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বিজেপির ক্রমবর্ধমান গ্রাফ। এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কৃষ্ণনগরের মাটিতে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক রসায়ন। সিপিআইএমএল (CPIML) লিবারেশনের প্রার্থী লাবণী-র প্রচারে যেভাবে সিপিএম কর্মীরা প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন, তাতে অনেক রাজনৈতিক সমীকরণই ওলটপালট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রাম বাংলার আর্তনাদ: "আমাদের ভোট কাটা গেছে"
প্রচারের প্রথম ভাগেই এক অস্বস্তিকর বাস্তব উঠে এসেছে লাবণীর অভিজ্ঞতায়। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরতে গিয়ে ভোটারদের থেকে তিনি শুনেছেন— "মা, আমাদের তো ভোট কাটা গেছে।" মানুষের এই অসহায়তা স্পর্শ করেছে প্রার্থীকে। কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন লড়াইয়ের মানে নিয়ে। কিন্তু বিকেলে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ চকদিগপুরের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে বিমর্ষ প্রার্থীর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন কয়েক দশক ধরে সিপিএম করা প্রবীণ থেকে নবীন কর্মীরা।
পরিসংখ্যানের দর্পণে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ: ঘাসফুল বনাম পদ্ম
কৃষ্ণনগর দক্ষিণের নির্বাচনী ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আসনটি তৃণমূলের (AITC) দুর্গ হিসেবেই পরিচিত, তবে সেখানেও বদলের হাওয়া লেগেছে।
২০১৬ বনাম ২০২১: এক নজরে নির্বাচনী ফলাফল
| বছর | বিজয়ী প্রার্থী (দল) | ভোট প্রাপ্তি | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (দল) | ভোট প্রাপ্তি | জয়ের ব্যবধান |
| ২০১৬ | উজ্জ্বল বিশ্বাস (AITC) | ৮০,৭১১ (৪৬.৩%) | মেঘলাল শেখ (CPIM) | ৬৭,৮৯৭ (৩৮.৯%) | ১২,৮১৪ |
| ২০২১ | উজ্জ্বল বিশ্বাস (AITC) | ৯১,৭৩৮ (৪৬.৯%) | মহাদেব সরকার (BJP) | ৮২,৪৩৩ (৪২.১%) | ৯,৩০৫ |
বিশ্লেষণ: ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট বাড়লেও জয়ের ব্যবধান কমেছে ৩,৫০৯ ভোট। এর প্রধান কারণ বিজেপির ভোট ব্যাংকের ব্যাপক উত্থান। গত নির্বাচনে বামেদের ভোট কমে মাত্র ৭.৯৮ শতাংশে ঠেকেছিল। তবে এবার লিবারেশন ও সিপিএমের এই নজিরবিহীন জোট কি সেই হারানো জমি ফিরে পাবে? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
শরিকি সৌজন্যে নতুন মাত্রা: ‘তিন তারা’-তে আস্থা
চকদিগপুরের স্কুল ঘরে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য। যেখানে লিবারেশনের সংগঠন প্রায় শূন্য, সেখানে সিপিএম কর্মীরাই এখন প্রধান চালিকাশক্তি। মিছিলের ভিড়ে দেখা গেল—
প্রতীক পরিচিতি: সিপিএম কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন, "কাস্তে-হাতুড়ি এবার ব্যালটে পাবেন না, এবার আমাদের প্রতীক তিন তারা।"
সাদা-লাল পাঞ্জাবির স্পিরিট: জনৈক বৃদ্ধ সিপিএম কর্মী তাঁর সাদা গোল ছোপওয়ালা লাল পাঞ্জাবিতে ‘তিন তারা’র প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর হুঙ্কার— "এবার লাল ঝড় আসছে!"
‘কমরেডশিপ’ বনাম দলীয় অসহযোগিতা
বাংলার রাজনীতিতে অনেক সময় জোট হলেও নিচুতলায় কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যায়। কিন্তু কৃষ্ণনগরে লাবণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে এক ভিন্ন গল্প। স্থানীয় সিপিএম নেতারা যেভাবে লিবারেশন প্রার্থীকে মানুষের বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, তা সাধারণত দলের ‘নিজের লোক’ ছাড়া দেখা যায় না। পার্টির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত করার এই সদিচ্ছা রাজনৈতিক সৌজন্যের এক বড় মাইলফলক।
প্রচারের ক্লান্তি শেষে কৃষ্ণনগরের সেই পুরনো ঠেকে ফুচকা খাওয়া বা রাতে পার্টি অফিসে তরুণ তুর্কিদের ফ্ল্যাগ তৈরির ব্যস্ততা—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে এক লড়াইয়ের। পরিসংখ্যানে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও, নিচুতলার এই বাম সংহতি ভোটের বাক্সে কোনো মিরাকল ঘটাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
Krishnanagar Dakshin Election 2026, CPIML Liberation, Labani Candidate Krishnanagar, CPM Support for CPIML, Left Front Alliance Bengal, Krishnanagar South Assembly Results, West Bengal Politics News, ViewsNow Bengali News, Three Star Symbol Campaign, Red Storm Krishnanagar, Ujjal Biswas TMC, BJP Mahadev Sarkar, Left Unity West Bengal, Ground Report Krishnanagar, Election Vote Share Analysis, Bengali Political Update






