আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৬ মার্চ, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেশ করা ১৫-দফার একটি বিস্তারিত যুদ্ধবিরতি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান এই প্রস্তাবকে "চরমপন্থী" (Maximalist) এবং "অযৌক্তিক" বলে অভিহিত করেছে। বিনিময়ে ইরান নিজস্ব কিছু শর্ত সম্বলিত একটি পাল্টা প্রস্তাব পেশ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।
মার্কিন প্রস্তাবের মূল রূপরেখা
ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত এই শান্তি পরিকল্পনায় ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল:
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ: ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা।
তদারকি: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) কর্তৃক কঠোর এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান।
প্রতিরক্ষা ও প্রভাব: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম সীমিত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (Proxy groups) প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।
নৌ-চলাচল: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সর্বজনীন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা।
ইরানের অবস্থান ও পাল্টা প্রস্তাব
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবগুলো সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এবং অনেকটা "আত্মসমর্পণের" শামিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে সরাসরি কোনো আলোচনা করছেন না, তবে একটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ইরানের পাল্টা প্রস্তাবের মূল দাবিগুলো হলো:
১. ক্ষতিপূরণ: বিগত বছরগুলোতে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. সার্বভৌমত্ব: হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখন চরমে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে, সেখানে তেহরান নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো চুক্তিতে আসতে নারাজ। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নিকট ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।


