নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দুর্গাপুর: পর্দার ‘কৃষ্ণেন্দু’ বা ‘অমিত’ আজ স্তব্ধ। ওড়িশার তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন বোট দুর্ঘটনায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শুধু বিনোদন জগত নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও। বিশেষ করে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে যারা লড়াই করেন, তাদের কাছে রাহুল ছিলেন এক পরিচিত মুখ।
বামপন্থার প্রতি দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা
রাহুল কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন স্পষ্টবক্তা। টলিউডের একটা বড় অংশ যখন শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকতে পছন্দ করেন, রাহুল সেখানে দাঁড়িয়ে বারংবার বামপন্থী মতাদর্শের কথা বলেছেন।
সিপিআই(এম)-এর সমর্থনে: বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনে রাহুলকে বহুবার প্রচারের ময়দানে দেখা গেছে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাহুলের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল। সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াইকে তিনি সবসময় গ্ল্যামারের ঊর্ধ্বে স্থান দিতেন।
শ্যুটিং সেটে শ্রমিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাহুলের এই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ফের একবার বিনোদন জগতের অসংগঠিত ক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন এবং টেকনিশিয়ান ফোরামের একাংশের মতে, শ্যুটিং স্পটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট বা উদ্ধারকারী দল কেন ছিল না, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা রাহুল নিজেই আজ কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবে প্রাণ হারালেন—এ এক চরম পরিহাস।
শোকবার্তা ও প্রতিক্রিয়া
, "রাহুল ছিলেন একজন প্রকৃত শিল্পী, যিনি মাটির কাছাকাছি থাকতেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হারালাম।"
তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার এবং পুত্র সহজ-এর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অগণিত গুণগ্রাহী। রাহুলের এই প্রয়াণ কেবল টলিউডের ক্ষতি নয়, এটি প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষের কাছেও এক বড় ধাক্কা।




