তেহরান ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমির বালিতে এখন কেবলই বারুদের গন্ধ। সাধারণ মানুষ যখন শান্তির প্রার্থনা করছে, তখন পর্দার আড়ালে ঘনিয়ে আসছে এক প্রলয়ঙ্কারী ঝড়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সাম্প্রতিক রণকৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ইরান তার সামরিক শক্তির সবচেয়ে ধারালো দুটি তলোয়ার— 'নোহেদ' এবং 'সাবেরিন'-কে খাপমুক্ত করেছে। লক্ষ্য একটাই: মার্কিন বাহিনীকে এমন এক 'কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক' আঘাত হানা, যা তারা দীর্ঘকাল মনে রাখবে।
অভিজাত দুই শক্তির অভূতপূর্ব জোট
ইরানের সামরিক ইতিহাসে সেনাবাহিনীর ৬৫তম এয়ারবোর্ন ব্রিগেড (NOHED) এবং আইআরজিসি-র সাবেরিন ইউনিট—এই দুই শক্তির একসাথে কাজ করার ঘটনা বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ।
নোহেদ (NOHED): যারা 'সবুজ টুপি' (Green Berets) নামে পরিচিত। দুর্গম পাহাড় থেকে শুরু করে শত্রুশিবিরের গভীরে ঢুকে গেরিলা আক্রমণে তারা বিশ্বসেরাদের কাতারভুক্ত।
সাবেরিন: আইআরজিসি-র এই ইউনিটটি তাদের আত্মত্যাগ এবং নিখুঁত নিশানার জন্য পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই বাহিনীর যৌথ পরিকল্পনা নির্দেশ করে যে, ইরান এবার আর শুধু প্রক্সি বা ছোটখাটো রকেট হামলায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। তারা সরাসরি এবং অত্যন্ত বিধ্বংসী কোনো কমান্ডো অপারেশনের ছক কষছে।
আশির দশকের স্মৃতি কি ফিরে আসছে?
এই পরিকল্পনার সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো এর কৌশল। ইরান সম্ভবত আশির দশকের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে, যা একসময় মার্কিন প্রশাসনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময়কার বন্দি সংকট বা অতর্কিত কমান্ডো হামলার কথা মাথায় রেখে ইরান এখন নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করছে:
উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের আটক: কূটনৈতিক বা সামরিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ইরান বিশ্বমঞ্চে নিজের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চায়।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ কর্মকর্তাদের ওপর নজর: সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করতে এবং মার্কিন অর্থনীতি ও মনোবলে আঘাত করতে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদেরও এই লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
একটি মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট
এই যুদ্ধের ডামাডোলে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তেহরানের অলিগলি থেকে শুরু করে ওয়াশিংটনের করিডোর—সবখানেই এক অজানা আতঙ্ক। যদি এই 'স্মার্ট এবং সুইফট' হামলা সত্যি কার্যকর হয়, তবে তা কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং এক দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের জন্ম দেবে। প্রতিটি আটক বা নিখোঁজ সেনার পেছনে থাকবে একটি অপেক্ষারত পরিবার, আর প্রতিটি রকেট হামলার শব্দে কেঁপে উঠবে হাজারো নিরীহ প্রাণ।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান এবং "যন্ত্রণাদায়ক প্রতিশোধের" ঘোষণা বিশ্বকে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কূটনীতির জানালাগুলো কি তবে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? নাকি এই আস্ফালন কেবলই এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ? উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।

.jpg)
