গড়িয়া স্টেশনে বামপন্থী ঢেউ: সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রচারে বিপুল সাড়া পেলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী মোনালিসা সিনহা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা — ২৬ মার্চ, ২০২৬
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত রেল জংশন গড়িয়া স্টেশন বুধবার এক রক্তিম রূপ ধারণ করেছিল। সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী কমরেড মোনালিসা সিনহা যখন তাঁর নিবিড় জনসংযোগ অভিযান শুরু করেন, তখন গোটা স্টেশন চত্বর লাল পতাকায় ঢেকে যায়। শ্রমিক, ছাত্র, যুব এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগামী নির্বাচনের আগে এক পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছিল।
গড়িয়ায় ‘লাল ব্রিগেড’
গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকাটি সোনারপুর এবং দক্ষিণ কলকাতার সংযোগস্থল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের পুনরুত্থানের মেজাজ এই মিছিলে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। হাতে কাস্তে-হাতুড়ি-তারা চিহ্নিত পতাকা এবং 'বাংলা বাঁচাও' পোস্টার নিয়ে কাতারে কাতারে কর্মী-সমর্থক মিছিলে সামিল হন। কমরেড মোনালিসা সিনহা ট্রেনের যাত্রী, হকার, দিনমজুর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ও তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গড়িয়া স্টেশনকে প্রচারের জন্য বেছে নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্তমান শাসকদলের 'সিন্ডিকেট রাজ', বেকারত্ব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ মানুষের মনে জমা হয়েছে, বামফ্রন্ট সেই শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর হয়েই ময়দানে নেমেছে।
কমরেড মোনালিসা সিনহা: সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি
দীর্ঘদিনের লড়াকু বামপন্থী কর্মী মোনালিসা সিনহা সোনারপুর উত্তরের অলিগলিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। নিচুতলার মানুষের পাশে থেকে লড়াই করার মানসিকতাই তাঁকে জনমানসে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বেআইনি জমি দখল রোখা থেকে শুরু করে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা — সব লড়াইতেই তাঁকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
গড়িয়া স্টেশনে প্রচার চলাকালীন এক পথসভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
"এই লড়াই কেবল একজন বিধায়ক বেছে নেওয়ার লড়াই নয়; এই লড়াই বাংলার মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। মানুষ আজ তৃণমূলের দুর্নীতি আর তোলাবাজিতে অতিষ্ঠ। আমরা বাংলায় কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দায়বদ্ধ।"
প্রচারের মূল ইস্যুসমূহ
সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের ভোট প্রচারে কমরেড মোনালিসা সিনহা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরছেন:
কর্মসংস্থান: শিক্ষিত যুবকদের সরকারি চাকরি এবং ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মজুরি মেটানোর দাবি।
দুর্নীতি ও কাটমানি: আবাসন, রেশন এবং উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূলের তথাকথিত 'কাটমানি' সংস্কৃতির বিরোধিতা।
নারী সুরক্ষা: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।
নিকাশি ব্যবস্থা: সোনারপুর এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা—জলমগ্নতা ও নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: ধুঁকতে থাকা সরকারি স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন।
বামফ্রন্টের কৌশলগত লড়াই
মোনালিসা সিনহার মতো একজন সক্রিয় এবং তৃণমূল স্তরে কাজ করা সংগঠককে প্রার্থী করে বামফ্রন্ট স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা এবার বুথ স্তরে শক্তিশালী লড়াই দিতে প্রস্তুত। ঘরে ঘরে প্রচার এবং পাড়ায় পাড়ায় ছোট ছোট সভার (nukkad sabha) মাধ্যমে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোর যে রণকৌশল সিপিআই(এম) নিয়েছে, মোনালিসা সিনহা সেই লড়াইতে অগ্রণী ভূমিকা নিচ্ছেন।
জনমত কী বলছে?
গড়িয়া স্টেশনের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, "আগে বাম আমলের শান্ত পরিবেশ আমরা দেখেছি। এখন আবার সেই দিনগুলো ফিরে আসুক এটাই চাই।" এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর কথায়, "আমরা ধর্ম বা জাতের রাজনীতি চাই না; আমরা চাই কাজ এবং নিরাপত্তা। মোনালিসা দি সেই দাবিগুলোই তুলে ধরছেন।"
গড়িয়া থেকে সোনারপুর — এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লাল পতাকার এই ঢেউ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বামপন্থীরা আবার রাজপথে ফিরছে এবং তৃণমূল-বিজেপি দুই শিবিরের কাছেই তারা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
#CPIM #BanglaBachao #Vote4Left #Vote4CPIM #WestBengal #SonapurNorth #MonalisaSinha #LeftFront #BengalElections2026




