প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক
তারিখ: ২৬ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ দীপিকা সরস্বত। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী’ এবং ‘নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধের স্বীকৃত সকল নিয়ম ও নৈতিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।
যুদ্ধের নিয়ম ও মানবতার চরম অবক্ষয়
দীপিকা সরস্বত বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে যুদ্ধের কিছু নীতি থাকে, কিন্তু এই সংঘাতে তার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। তিনি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন:
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা: যুদ্ধের শুরুতেই একটি স্কুলে হামলা চালানো হয়, যেখানে শত শত স্কুলছাত্রী প্রাণ হারায়। এটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের শামিল।
নেতৃত্ব নির্মূল কৌশল: রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা (Decapitation strikes) এই যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর অপব্যবহার: বর্তমানে যুদ্ধে AI ব্যবহারের কথা শোনা গেলেও সরস্বত সতর্ক করে বলেন, এটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের মতো ততোটা ‘স্মার্ট’ বা নির্ভুল নয়। ফলে ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি এবং বেসামরিক প্রাণহানি বহুগুণ বেড়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বনাম ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। তবে দীপিকা সরস্বতের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানকে দুর্বল করার পরিবর্তে উল্টো স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে।
তিনি জানান, ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে ইরান একটি বড় শিক্ষা নিয়েছে— আর তা হলো 'স্বনির্ভরতা'। বর্তমানে ইরানের নিজস্ব এক বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে উঠেছে:
মিসাইল ও ড্রোন প্রোগ্রাম: উত্তর কোরিয়া বা চীনের কাছ থেকে প্রাথমিক সহায়তা নিলেও বর্তমানে ইরান উন্নত প্রযুক্তির মিসাইল ও ড্রোন তৈরিতে বিশ্বসেরাদের কাতারে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব: ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন এতটাই বেড়েছে যে, তারা রাশিয়ার মতো পরাশক্তির জন্য ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের ব্যর্থতা
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে দীপিকা সরস্বত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ (Maximum Pressure) কৌশল নিয়ে কথা বলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু হওয়া এই কৌশলের লক্ষ্য ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা এবং নতি স্বীকার করানো।
সরস্বত সরাসরি বলেন, “এই কৌশলটি ব্যর্থ হয়েছে।” কারণ, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো, কিন্তু ইরান আত্মসমর্পণ তো করেইনি, বরং তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নিয়েছে। এই কৌশল কেবল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

.jpg)
