কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আজ কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে এক বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল সিপিআই(এম)। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এই জমায়েত থেকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি তোলা হয়।
বিক্ষোভের মূল কারণ ও দাবিদাওয়া:
পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে এই মিছিলে প্রধানত তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে:
১. বৈধ ভোটার ঘোষণা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে যাদের নাম ম্যাপিং হয়ে গেছে, তাদের অবিলম্বে বৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। তাদের কোনোভাবেই 'বিচারাধীন' রাখা চলবে না।
২. স্বচ্ছ ভোটার তালিকা: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানান, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনো নির্বাচন করা যাবে না।
৩. বেসরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ: SIR প্রক্রিয়ায় আই-প্যাক (I-PAC)-এর মতো বেসরকারি সংস্থার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম নেতৃত্ব।
সমাবেশ থেকে বার্তা:
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বাঁচাতে এই লড়াই জারি থাকবে। সমাবেশে স্লোগান ওঠে, "ভোটাধিকার বাঁচাতে জনতার সমাবেশ" এবং "বাংলা বাঁচাও"। মহম্মদ সেলিম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে তারা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবেন যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কাজ নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। শুধু বামেরা নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বামেদের অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি এবং রাজ্যের শাসক দল উভয়েই নিজেদের সুবিধামতো ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে।
আজকের এই সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় এবং দাবি জানানো হয় যে, স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করতে প্রয়োজনে আরও বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হোক।





