তেহরান, ৯ মার্চ ২০২৬: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনেইয়ের প্রতি তাদের অবিচল আস্থা ও পূর্ণ আনুগত্য ঘোষণা করেছে। সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় নতুন নেতৃত্বের অধীনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
ঐতিহাসিক নেতৃত্ব পরিবর্তন
গত ৮ মার্চ ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস (বিশেষজ্ঞদের পরিষদ) এক বিশেষ অধিবেশনে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেইকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর এই শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনী জানায়:
"আমরা আমাদের শেষ নিঃশ্বাস এবং শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে নতুন নেতার নির্দেশ পালন করব। ইসলাম ও ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
জাতীয় প্রতিক্রিয়া ও উদযাপন
মোজতবা খামেনেইয়ের নাম ঘোষণার পর তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে জনতাকে রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং তেহরান টাইমস-এর খবরে জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে 'জাতীয় সংহতির প্রতীক' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ (পার্লামেন্ট স্পিকার): এই সিদ্ধান্তকে "সান্ত্বনাদায়ক" এবং শোকাতুর জাতির জন্য এক নতুন আশার আলো হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আলী লারিজানি (সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি): প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিশেষজ্ঞদের পরিষদের এই সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেছেন, এটি শত্রুদের জন্য একটি দাঁতভাঙা জবাব।
কে এই মোজতবা খামেনেই?
৫৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পর্দার অন্তরালে থেকে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগে তার গভীর প্রভাব রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু পুরনো ফুটেজে তাকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে, যা সামরিক বাহিনীর মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এমন এক সময়ে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন হলো যখন ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে এক ভয়াবহ সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইতিমধ্যে নতুন এই নেতৃত্বের সমালোচনা করেছে, তবে ইরানের অভ্যন্তরে রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনী মোজতবা খামেনেইকে "প্রতিরোধের নতুন কান্ডারি" হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে।



