তেহরান, ১১ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আমেরিকার সাথে চরম কূটনৈতিক সংঘাতের জেরে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। বুধবার ইরানের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি (Ahmad Donyamali) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
মূল কারণসমূহ: কেন এই বর্জন?
ক্রীড়ামন্ত্রী দুনিয়ামালি তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু কঠোর কারণ উল্লেখ করেছেন:
নেতৃত্বের ওপর হামলা: মন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তারপর তাদের দেশে গিয়ে খেলতে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "যে সরকার আমাদের নেতাকে হত্যার পেছনে দায়ী, সেই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের দেশে আমাদের দল অংশ নেবে না।"
আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি: গত আট-নয় মাসে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং হাজার হাজার নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনাকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা: এর আগে থেকেই ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল আমেরিকা, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ফুটবলীয় ও রাজনৈতিক তিক্ততা চরমে পৌঁছায়।
ফিফার অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইরান ইতিমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ড্র অনুযায়ী তারা গ্রুপ জি (Group G)-তে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে খেলার কথা ছিল।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন যে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই আশার ওপর জল ঢেলে দিল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল মূল পর্ব থেকে এভাবে নাম প্রত্যাহার করলে বড় অংকের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে ফিফার অন্যান্য টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সিদ্ধান্তটি ইরানের অভ্যন্তরীণ লিগ স্থগিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির একটি বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


