ওয়াশিংটন: ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (NCTC) ডিরেক্টর জো কেন্ট। মঙ্গলবার নিজের পদত্যাগপত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের পক্ষ থেকে আমেরিকার ওপর কোনো তাৎক্ষণিক হামলার হুমকি ছিল না। বরং ইজরায়েল এবং আমেরিকার শক্তিশালী ‘ইজরায়েল লবি’-র চাপেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন।
টাকার কার্লসন শো-তে বিস্ফোরক কেন্ট
ইস্তফা দেওয়ার পর বুধবার ‘দ্য টাকার কার্লসন শো’-তে উপস্থিত হয়ে জো কেন্ট আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, “ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি ছিল না।” তার মতে:
২০০৪ সালের ফতোয়া: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ২০০৪ সাল থেকেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ‘ফতোয়া’ জারি করে রেখেছেন এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সেই ফতোয়া লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ নেই।
তথ্যের গোপনীয়তা: কেন্ট অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের ভেতরে যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছিলেন, তাদের প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের মতামত উপেক্ষা করে একটি ছোট গোষ্ঠীর কথায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি: কেন্ট সতর্ক করে বলেন, ২০০৩ সালে ইরাকে যেভাবে ‘ম্যাস ডেসট্রাকশন ওয়েপন’ (WMD)-এর মিথ্যা অজুহাতে যুদ্ধ চাপানো হয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্রনাট্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফবিআই তদন্তের মুখে কেন্ট
জো কেন্টের এই পদত্যাগের রেশ কাটতে না কাটতেই তার বিরুদ্ধে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। ফক্স নিউজের ‘দি ইনগ্রাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, জো কেন্ট এখন এফবিআই-এর (FBI) তদন্তের অধীনে রয়েছেন।
তদন্তের মূল দিক:
অভিযোগ: কেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় (Classified) সরকারি তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করেছেন।
তদন্তের সময়কাল: রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্টের পদত্যাগের অনেক আগে থেকেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র দাবি করেছে, কেন্টকে ‘ফাঁসকারী’ (Leaker) হিসেবে চিহ্নিত করে অনেকদিন আগেই গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ব্রিফিং থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন্টের সমালোচনা করে তাকে ‘নিরাপত্তার বিষয়ে দুর্বল’ বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান একটি ‘ভয়াবহ হুমকি’ ছিল এবং তার কাছে হামলার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন যে, যারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারছেন না, তাদের পদত্যাগ করাই শ্রেয়।
আপনার মতামত জানান: ইরানের সাথে এই যুদ্ধ কি আমেরিকার জন্য আরেকটি দীর্ঘমেয়াদী ভুল? জো কেন্টের অভিযোগ কি সঠিক? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত শেয়ার করুন।
আরও খবরের জন্য ভিজিট করুন:
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন: SP Stories


