নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারের ময়দানে ঝড় তুলছে বামফ্রন্ট। মঙ্গলবার এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আরজি কর হাসপাতালের ন্যাক্কারজনক ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন।
'আরজি কর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়'
এদিন মহম্মদ সেলিম বলেন, "আরজি কর হাসপাতালের সেই তরুণী চিকিৎসকের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এই রাজ্যের ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলার নগ্ন রূপ। দোষীদের আড়াল করতে পুলিশ ও প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই যে ভূমিকা নিয়েছে, তা গোটা দেশের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মাথা হেঁট করে দিয়েছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন:
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: ঘটনার পরেই কেন হাসপাতালের সেমিনার হল ভাঙচুর করা হলো? কেন তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হলো? কার নির্দেশে পুলিশ সেখানে নীরব দর্শক ছিল?
থ্রেট কালচার: সেলিমের দাবি, আরজি কর থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে এক ভয়াবহ 'থ্রেট কালচার' বা ভয়ের রাজনীতি কায়েম করেছে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট।
ভোটের ইস্যু যখন আরজি কর
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আরজি কর কাণ্ড যে বামেদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হতে চলেছে, তা সেলিমের বক্তব্যে স্পষ্ট। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার দেওয়ার নাম করে সময় নষ্ট করছেন। কিন্তু মানুষ সব দেখছে। আরজি করের সেই মেয়ের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ছাত্র-যুবরা রাস্তা ছাড়বে না। ব্যালট বক্সেই মানুষ এই অন্যায়ের যোগ্য জবাব দেবে।"
বাম বিকল্পের ডাক
বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয়কেই 'মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ' আখ্যা দিয়ে সেলিম বলেন, "বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণ করে আরজি করের আন্দোলনকে বিপথে চালিত করতে চাইছে। অন্যদিকে তৃণমূল দুর্নীতির পাহাড় চাপা দিতে চাইছে। একমাত্র বামপন্থীরাই পারে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে।"
জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। সেলিমের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বিধানসভা ভোটের আগে বাম কর্মীদের নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


