নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর ও কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি এবং কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের গতি তীব্র করল বাম দলগুলি। বুধবার রাতভর কলকাতার ইসিআই (ECI) দপ্তরের সামনে সিপিআইএম নেতৃত্বের ঐতিহাসিক অবস্থান বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার সকালেই তার আঁচ আছড়ে পড়ল দুর্গাপুরে। সিটি সেন্টারে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিশাল জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হন শত শত মানুষ।
মূল প্রেক্ষাপট: 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র জাঁতাকল
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রায় ৬৩.৬৬ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারকে রাখা হয়েছে 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' (Under Adjudication) বা বিচারধীন তালিকায়। বামেদের অভিযোগ, ডিজিটাল ত্রুটি এবং অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে (যেমন: বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হওয়া বা বানানের ভুল) সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
দুর্গাপুরে বামেদের ক্ষোভের ডালি
আজ সকালে দুর্গাপুরে এসডিএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন সিপিআইএম নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, শিল্পাঞ্চলের বহু বৈধ নাগরিকের নাম এই বিতর্কিত তালিকায় ঢুকে পড়েছে।
হুঁশিয়ারি: "যদি জনগণের নাম দ্রুত ফিরিয়ে আনা না হয়, তবে এবার ভোট হতে দেওয়া হবে না।"
দাবি: প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি বুথ ভিত্তিক 'অ্যাডজুডিকেশন' তালিকার কপি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
বামেদের ৫ দফা প্রধান দাবি:
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে যে দাবিগুলি পেশ করেছে, তা হলো:
তালিকায় পুনর্বহাল: 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র নামে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বা হোল্ডে রাখা হয়েছে, পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই সাপেক্ষে তাদের অবিলম্বে ভোটার তালিকায় সক্রিয় করতে হবে।
ভোটের অধিকার নিশ্চিতকরণ: 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন' তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ মানুষ যাতে আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্য সরবরাহ: প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে বুথ অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারদের বিস্তারিত তালিকা প্রদান করতে হবে।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা: ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা চলবে না। ব্লক এবং পঞ্চায়েত স্তরে এই প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা আরও স্বচ্ছ হতে হবে।
সময়সীমা ঘোষণা: কবে নাগাদ এই সমস্যা সমাধান হবে এবং সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে, তার নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।
তৃণমূল-বিজেপি তরজা
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই ইস্যুতে সরব হয়ে রাজভবন অভিযানের ডাক দিলেও বামেদের অভিযোগ, প্রশাসনের ব্যর্থতাই এই সমস্যার মূলে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় কেবল 'অনুপ্রবেশকারী'দের নাম বাদ যাচ্ছে। এই ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানো নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।





