নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলী ক্রীড়া মানচিত্রকে নতুনভাবে সাজাতে এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হলো দুর্গাপুরের ঐতিহাসিক ‘লাল ময়দানে’। আজ দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন ক্লাব, ক্রীড়া সংস্থা এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকদের উপস্থিতিতে এই মতবিনিময় সভা এক অনন্য রূপ নেয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জীকে ক্রীড়া সংগঠকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। অন্য প্রার্থী প্রভাস সাঁই নির্বাচনী প্রচারে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, তাঁর বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা সংগঠকদের উদ্দেশ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ক্রীড়া সংগঠকদের ক্ষোভ ও প্রস্তাব:
সভায় উপস্থিত জেলা ও মহকুমা স্তরের অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকরা বর্তমান ক্রীড়া ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরেন। মাঠের অভাব থেকে শুরু করে সরঞ্জামের অপ্রতুলতা এবং স্বজনপোষণের রাজনীতি কীভাবে উদীয়মান খেলোয়াড়দের স্বপ্ন নষ্ট করছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাম প্রার্থীদের পাঁচ দফা ‘ক্রীড়া ইশতেহার’:
সংবর্ধনা গ্রহণ করে সীমান্ত চ্যাটার্জী সাফ জানান, নির্বাচিত হলে দুর্গাপুরের ক্রীড়া ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনাই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় মূলত পাঁচটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়:
আধুনিক পরিকাঠামো: প্রতিটি ব্লকে বিশ্বমানের খেলার মাঠ এবং উন্নতমানের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Academy) গড়ে তোলা হবে।
তৃণমূল স্তরে প্রতিভা অন্বেষণ: রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মেধার ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাছাই করতে ব্লক স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে।
বাধ্যতামূলক শরীরচর্চা: পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও শরীরচর্চাকে পাঠ্যক্রমের আবশ্যিক অংশ হিসেবে কার্যকর করা হবে।
ক্লাবগুলিকে আর্থিক সুরক্ষা: স্থানীয় ক্লাবগুলিকে শুধু বার্ষিক অনুদান নয়, বরং কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পের সাথে যুক্ত করতে বছরে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্তি: বড় বড় ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবগুলিকে নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে প্রকৃত খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমী সংগঠকদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সভা শেষে সীমান্ত চ্যাটার্জী বলেন, "সুস্থ সমাজ গড়ার প্রথম শর্ত হলো শক্তিশালী ক্রীড়া পরিকাঠামো। আমরা চাই দুর্গাপুরের ছেলেরা আবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নাম উজ্জ্বল করুক।" এদিনের এই সভায় দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিল্পাঞ্চলের ক্রীড়া মহলে এই আলোচনা সভা এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Views Now নিউজ ডেস্ক
তারিখ: ১১ এপ্রিল, ২০২৬
















