নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তরপাড়া: লোকসভা নির্বাচনের আবহে উত্তরপাড়ার বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর অতীত অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবন নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এনএসজি (NSG) কমান্ডো হিসেবে দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করা এবং পাকিস্তানে ঢুকে ৫০ জনকে এনকাউন্টার করার মতো যে সব দাবি তিনি নির্বাচনী প্রচারে করছেন, তাকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অবাস্তব’ বলে দাবি করল প্রাক্তন সিএপিএফ (CAPF) জওয়ানদের একটি সংগঠন।
সম্প্রতি একটি প্রেস মিট বা সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন জওয়ানরা দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর বিভিন্ন দাবিকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন। তাঁদের প্রধান আপিল ও বক্তব্যগুলি হলো:
চাকরির মেয়াদ ও এনএসজি: প্রাক্তন জওয়ানদের দাবি, এনএসজিতে সাধারণত ২ থেকে ৫ বছরের জন্য ডেপুটেশনে যাওয়া যায়। ১৮ বছর ধরে এনএসজি-তে সরাসরি কাজ করার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে অসম্ভব।
র (RAW) এবং গোপনীয়তা: দীপাঞ্জন নিজেকে ‘র’-এর অফিসার হিসেবেও দাবি করেছেন। প্রাক্তন জওয়ানদের বক্তব্য, গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী কোনো অফিসার তাঁর পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারেন না, এমনকি পরিবারের কাছেও নয়। সেখানে টিভির পর্দায় বা ভোট প্রচারে বসে এনকাউন্টারের রোমহর্ষক বিবরণ দেওয়া আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং এটি সম্পূর্ণ অবাস্তব।
পাকিস্তানের মাটিতে এনকাউন্টার: সার্বভৌম অন্য একটি দেশে ঢুকে ৫০ জন নাগরিককে এনকাউন্টার করার গল্পকে হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্য বলে কটাক্ষ করেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি জটিলতা অনেক বেশি হয়, যা একজন প্রকৃত সিক্রেট এজেন্সি অফিসার কখনওই এভাবে জনসমক্ষে বলবেন না।
পদমর্যাদা নিয়ে ধোঁয়াশা: ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনের দাবি করলে তাঁর পদমর্যাদা অন্তত ব্রিগেডিয়ার বা তার উপরে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি কোন পদে কর্মরত ছিলেন বা অবসরের সময় তাঁর র্যাঙ্ক কী ছিল, তা আজও স্পষ্ট নয়।
প্রাক্তন জওয়ানদের সংগঠনের মতে, দীপাঞ্জন বাবু মানুষকে অন্ধকারের মধ্যে রেখে মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণ: এই বিতর্ক দানা বাঁধতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন এমন বিতর্কিত ভাবমূর্তির একজনকে উত্তরপাড়ার প্রার্থী করা হলো? স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মীনাক্ষী মুখার্জির মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট কাটতেই কি বিজেপির এই কৌশল? দীপাঞ্জনের এই ‘জালি’ পরিচয় যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা বিজেপির জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বর্তমানে এই ইস্যুটি উত্তরপাড়ার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রার্থীর সত্যতা নিয়ে ভোটারদের মনে জমা হওয়া এই সংশয় ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।


