" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: 'সত্য জানতে চাই', ব্ল্যাক বক্সের তথ্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি নিহতদের স্বজনদের //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: 'সত্য জানতে চাই', ব্ল্যাক বক্সের তথ্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি নিহতদের স্বজনদের

 



নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: ১০ মাস আগে গুজরাটের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার ক্ষত এখনো দগদগে। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬০ জন মানুষ। দীর্ঘ সময় পার হলেও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তুষ্ট নিহতের পরিবারগুলো। শনিবার আহমেদাবাদে প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছেন। তাদের দাবি একটাই— দুর্ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল না করে ব্ল্যাক বক্স ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের (CVR) তথ্য প্রকাশ করা হোক।


চিঠিতে যা বলা হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে পরিবারগুলো জানিয়েছে, তারা আর কোনো ক্ষতিপূরণ বা আশ্বাস চান না, বরং তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণটি জানতে চান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে:

"আমরা জানতে চাই ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত দিনে। বিমানটিতে কি কোনো বড় যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল? নাকি অন্য কোনো কারণে এই বিপর্যয়? তদন্তের স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য আমাদের জানানো হোক।"

পরিবারগুলো আরও জানিয়েছে, যদি নিরাপত্তার খাতিরে এই তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত নিহতদের পরিবারদের ব্যক্তিগতভাবে তা জানানো হোক। এই চিঠির অনুলিপি অ্যারোক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB), ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকেও পাঠানো হয়েছে।


ফিরে দেখা সেই কালো দিন


২০২৫ সালের ১২ জুন। আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (AI 171)। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মাথায় বিমানটি উচ্চতা হারিয়ে বিমানবন্দরের কাছেই বি.জে. মেডিকেল কলেজের হোস্টেল ব্লকের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তে পুরো এলাকা আগুনের গোলায় পরিণত হয়।

  • নিহতের সংখ্যা: বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনই মারা যান (১২ জন ক্রু সদস্যসহ)।

  • স্থলভাগে ক্ষয়ক্ষতি: বিমানটি জনবহুল এলাকায় পড়ায় মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

  • মোট মৃত্যু: ২৬০ জন।


তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশা


প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, বিমানের দুটি ইঞ্জিনেরই জ্বালানি সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এমনকি কোনো কোনো রিপোর্টে পাইলটের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্বজনহারাদের মনে।


নিলেশ পুরোহিত নামে এক ব্যক্তি, যিনি এই দুর্ঘটনায় তার ২৪ বছরের ছেলেকে হারিয়েছেন, তিনি বলেন, "টাকা দিয়ে এই শূন্যস্থান পূরণ হবে না। আমার বাড়ি আজ খাঁ খাঁ করছে। আমরা শুধু জানতে চাই শেষ মুহূর্তে ঠিক কী হয়েছিল।"


পরিবারগুলোর এই চিঠির পর কেন্দ্রীয় সরকার বা বিমান চলাচল মন্ত্রক কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্রিটেন এবং আমেরিকায় বোয়িং কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ। তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না ফিরলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।


Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies