কলকাতা, ৯ এপ্রিল ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে একটি কড়া চিঠি লিখে তাঁর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ অর্থাৎ ৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিপিআই(এম)-এর পক্ষ থেকে একে 'গণ-ভোটাধিকার হরণের সুপরিকল্পিত ছক' বলে অভিহিত করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলি:
অস্বচ্ছ ‘বিচারাধীন’ তালিকা: চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বহু ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (বিচারাধীন) নামক একটি অস্বচ্ছ ক্যাটাগরিতে ফেলে রাখা হয়েছিল। নাম সংশোধনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আদতে কোনো কাজে আসেনি।
অ্যালগরিদমের খামখেয়ালি ব্যবহার: সিপিআই(এম)-এর দাবি, সাধারণ প্রশাসনিক আপডেটের বদলে ‘লজিক্যাল কনসিস্টেন্সি’-র মতো খামখেয়ালি মাপকাঠি এবং অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফিল্ড-ভেরিফিকেশন বা সরেজমিন তদন্তের ধার ধারেনি কমিশন।
নাগরিকত্বের বোঝা: এমএ বেবি অভিযোগ করেছেন, আগের নিয়ম ভেঙে ভোটারদেরই ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে দেখা হয়েছে এবং নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের যাবতীয় দায়ভার সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতি, হয়রানি, মানসিক ট্রমা এবং এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
প্রান্তিক মানুষের ওপর আঘাত:
সিপিআই(এম)-এর মতে, এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ— বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম, নারী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশ। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তালিকাগুলি এমন জটিল ফর্ম্যাটে প্রকাশ করা হয়েছে যা সাধারণ মানুষ বা বিশ্লেষকদের পক্ষে খতিয়ে দেখা প্রায় অসম্ভব।
"ভোটাধিকার একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার যা নাগরিকের সমতা ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। এইভাবে নাম বাদ দেওয়া ভারতীয় সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী।"
— এমএ বেবি, সাধারণ সম্পাদক, সিপিআই(এম)
সিপিআই(এম) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এইভাবে কাউকে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে দেশের নাগরিকদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দল। কমিশনের এই ‘বৈষম্যমূলক’ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তারা সাফ জানিয়েছে, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।


