নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর | ১লা এপ্রিল, ২০২৬
দুর্গাপুর: দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু শিল্পনগরী দুর্গাপুরে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলা অপশাসন, কর্মসংস্থানহীনতা এবং আকাশছোঁয়া দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে আজ বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র পেশ ঘিরে জনবিস্ফোরণ দেখল শিল্পাঞ্চল। বুধবার সকালে বিমল দাশগুপ্ত ভবন থেকে মহকুমা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে শুধুই ছিল লাল পতাকার ঢেউ।
প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত জনতা
এপ্রিলের শুরুতেই তপ্ত রোদের তেজকে উপেক্ষা করে এদিন সকাল থেকেই দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের রাস্তাগুলিতে জমায়েত হতে শুরু করে মানুষ। বিমল দাশগুপ্ত ভবনের সামনে জমায়েত হওয়া মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা ১১টা নাগাদ মিছিল যখন মূল প্রশাসনিক ভবনের দিকে রওনা দেয়, তখন মাইলের পর মাইল রাস্তা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, "এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়, বরং গত দেড় দশকের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।"
মনোনয়ন পেশ করলেন চার হেভিওয়েট প্রার্থী
এদিন বিশাল মিছিলের অগ্রভাগে থেকে মহকুমা শাসকের কাছে নিজেদের মনোনয়ন পত্র জমা দেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার চার বিশিষ্ট বাম নেতা:
রানীগঞ্জ বিধানসভা: পোড়খাওয়া নেতা নারান বাউরি।
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা: লড়াকু সংগঠক প্রবীর মন্ডল।
দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা: প্রাক্তন বিধায়ক ও জননেতা প্রভাস সাঁই।
দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা: যুব সমাজের প্রতিনিধি সীমান্ত চ্যাটার্জি।
মূল ইস্যু: দুর্নীতির শেষ এবং কর্মসংস্থানের ডাক
মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রার্থীরা জানান, এবারের লড়াই মূলত 'লুটের রাজত্ব' বনাম 'মানুষের অধিকার'-এর। গত ১৫ বছরে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বালি-কয়লা পাচার পর্যন্ত যে সিন্ডিকেট রাজ রাজ্যে কায়েম হয়েছে, তার অবসান ঘটানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং স্থানীয় যুবকদের স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় প্রার্থীদের কণ্ঠে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দীর্ঘদিন পর দুর্গাপুরের রাজপথে বামেদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত এবং বিশাল জমায়েত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে। মিছিলে নবীন এবং প্রবীণদের মেলবন্ধন ছিল দেখার মতো। অনেক সাধারণ মানুষকে বলতে শোনা গেছে, "দীর্ঘদিন পর মানুষ ভয় কাটিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাল ঝাণ্ডার তলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।" এই জনজোয়ার আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শাসক এবং বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিকেল নাগাদ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় এই কর্মসূচি। তবে এই মিছিলের রেশ এবং মানুষের আবেগ যে নির্বাচনী ময়দানে বড়সড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
পড়ুন ও শেয়ার করুন:
সরাসরি দেখুন: SP Stories YouTube Channel














