কলকাতা: বিধানসভার গেট দিয়ে যখন তিনি ভেতরে প্রবেশ করছিলেন, তখন অলিন্দে অলিন্দে কানাকানি—"ফিরল, ৫ বছর পর আবার ফিরল।" তিনি মোস্তাফিজুর রহমান (রানা)। ২০২১ সালের নির্বাচনে যে শূন্যতার দহন বাম কর্মীদের কুরে কুরে খাচ্ছিল, ২০২৬-এর এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সেই ক্ষতে প্রলেপ দিল। শপথ নিয়েই তিনি ছুটলেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
মুজফ্ফর আহমেদ ভবনের সেই আবেগঘন দৃশ্য
রাজ্য দপ্তরে পা রাখতেই মোস্তাফিজুরকে ঘিরে ধরেন কর্মীরা। প্রবীণ জননেতা বিমান বসুর ঘরে ঢুকে যখন রানা তাঁর পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ চাইলেন, ঘরের পরিবেশ তখন থমথমে। ৫ বছরের দীর্ঘ লড়াই আর অপেক্ষার শেষে এই জয় যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো। বিমান বসুর পিঠ চাপড়ানি আর মোস্তাফিজুরের নুইয়ে পড়া শরীরের ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছিল, এই দায়িত্ব কতটা গুরুভার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে রানা যখন বললেন, "বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই আজ ১ থেকে শুরু হলো, এই ১-ই বিধানসভায় ১০০ হয়ে ফিরবে," তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল হার না মানা জেদ আর অটল আত্মপ্রত্যয়।
বিধানসভায় বিরল সৌজন্য: রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা
শপথের সেই মুহূর্তটি ছিল সৌজন্যের এক উজ্জ্বল দলিল। বাংলা দেখল এক নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে লড়াই আছে কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই।
মমতা ও শুভেন্দুর সাথে সাক্ষাৎ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী—উভয়ের সঙ্গেই হাসিমুখে সৌজন্য বিনিময় করেন মোস্তাফিজুর।
পুরানো সখ্যের স্পর্শ: সবচেয়ে চর্চিত মুহূর্তটি ছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা একসময়ের বাম ছাত্রনেতা শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে রানার করমর্দন। আদর্শের লড়াই একপাশে সরিয়ে রেখে দুজনে যেভাবে হাত মেলালেন, তা দীর্ঘ ৫ বছর পর বিধানসভায় এক ইতিবাচক বাতাবরণ তৈরি করল।
এক নজরে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত
| মুহূর্ত | অনুভূতি ও তাৎপর্য |
| আশীর্বাদ | আলিমুদ্দিনে বিমান বসুর অভিভাবকসুলভ স্নেহ ও মোস্তাফিজুরের বিনয়। |
| অঙ্গীকার | "১ থেকে ১০০" হওয়ার আত্মবিশ্বাস, যা বাম শিবিরের টনিক। |
| সৌজন্য | মুখ্যমন্ত্রী ও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয়। |
| পুনর্মিলন | শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে সেই করমর্দন, যা রাজনীতির মানবিক দিকটি ফুটিয়ে তুলল। |
২০২১ থেকে ২০২৬—এই পাঁচটি বছর বামপন্থীদের কাছে ছিল এক দীর্ঘ বনবাসের মতো। আজ মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে সেই বনবাসের অবসান ঘটল। আলিমুদ্দিনের করিডোর থেকে বিধানসভার লবি, সর্বত্রই আজ একটাই গুঞ্জন—লাল নিশান আবার স্পন্দিত হচ্ছে বাংলার হৃদয়ে।




