" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory কেন্দ্র বনাম বিচার বিভাগ: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোরদার সওয়াল-জবাব //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

কেন্দ্র বনাম বিচার বিভাগ: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোরদার সওয়াল-জবাব

 



নয়াদিল্লি, ৮ মে, ২০২৬: ভারতের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘কার্যনির্বাহী বিভাগের একাধিপত্য’ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আইনি লড়াই এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে। আজ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত পিটিশনগুলোর শুনানি চলাকালীন বিচারব্যবস্থা ও সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। একদিকে সরকার যখন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এবং আইন বিশেষজ্ঞরা একে ‘গণতন্ত্রের মূল কাঠামোর ওপর আঘাত’ হিসেবে দেখছেন।


আজকের বিশেষ প্রেক্ষাপট: সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

আজকের শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চে মামলাটি উঠলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বিষয় আলোচিত হয়:

  • তড়িঘড়ি নিয়োগ বনাম বিচারবিভাগীয় নিয়োগ: আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিজয় হানসারিয়া সওয়াল করেন যে, যেভাবে সরকার গত কয়েক বছরে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেছে, তা প্রশাসনিক আধিপত্যের প্রতিফলন। এর প্রেক্ষিতে আদালত মন্তব্য করে, "নির্বাচন কমিশনারদের মতো দ্রুত গতিতে বিচারপতিদেরও নিয়োগ করা উচিত।"

  • প্রধান বিচারপতির ভূমিকা: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ২০২৩ সালের ‘অনুপ বার্নওয়াল’ মামলার রায়ে প্রধান বিচারপতিকে কমিটির সদস্য করার বিষয়টি ছিল একটি সাময়িক ব্যবস্থা, যতক্ষণ না সংসদ কোনো আইন তৈরি করছে। আদালত আজ প্রশ্ন তোলে, সংসদ আইন তৈরির পর সেই রায়ের কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন আইন কেন করা যাবে না?

  • স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ: মামলাকারীদের অভিযোগ, বর্তমান আইনে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মনোনীত মন্ত্রীর ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যত সরকারের একটি অংশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


বিতর্কের মূলে যে আইন (২০২৩)

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পাস হওয়া এই আইনে মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল কমিটির গঠন নিয়ে। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতিকে (CJI) রাখার নির্দেশ দিয়েছিল, সেখানে কেন্দ্র প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে।

সমালোচকদের প্রধান ৫টি আপত্তি:

  1. সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত: ৩ সদস্যের কমিটিতে ২ জনই সরকারের প্রতিনিধি হওয়ায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়েছে।

  2. সংবিধানের পরিপন্থী: আবেদনকারীদের দাবি, এটি সংবিধানের ৩২৪(২) অনুচ্ছেদ এবং ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’-এর মৌল ধারণার পরিপন্থী।

  3. আর্থিক পরাধীনতা: কমিশনারদের মর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বদলে ক্যাবিনেট সেক্রেটারির সমতুল্য করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে অনেকে মনে করেন।

  4. নিয়োগের সংক্ষিপ্ত তালিকা: নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের জন্য যে ‘সার্চ কমিটি’ কাজ করে, তার প্রধানও একজন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।

  5. শক্তির পৃথকীকরণ: বিচারবিভাগকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা ভারতের ক্ষমতার পৃথকীকরণ (Separation of Powers) নীতির বিরোধী।


রাজ্যসভায় আজকের গতিবিধি

আজ রাজ্যসভাতেও এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী সাংসদরা প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও আইনটি আগেই পাস হয়েছে, তবে বিচারবিভাগ ও কেন্দ্রের এই চলমান সংঘাত নিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে ফের আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি ‘গ্যারান্টর ইনস্টিটিউশন’ (Guarantor Institution) যদি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে তা আগামী নির্বাচনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

উপসংহার: গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

আজকের শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আগামী সপ্তাহের জন্য মুলতবি রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট এখন খতিয়ে দেখছে যে, সংসদ আইন প্রণয়নের সময় সুপ্রিম কোর্টের আগের কোনো রায়কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করতে পারে কি না। যদি আদালত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে, তবে তা হবে মোদী সরকারের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা। আর যদি আইনটি বজায় থাকে, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে শীর্ষ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের দিকে, যা নির্ধারণ করবে ভারতের গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন থাকবে।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies