তিউনিস, মে ২০২৬ — তিউনিসিয়ায় চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং ভিন্নমত দমনের সরকারি নীতিমালার প্রতিবাদে রাজধানী তিউনিসের রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনমনে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই সমাবেশকে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবারের এই বিক্ষোভে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং পেশাজীবী ইউনিয়নের শত শত প্রতিনিধি অংশ নেন। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধি এবং বিরোধী মতাদর্শীদের ওপর সাম্প্রতিক ক্র্যাকডাউনের তীব্র নিন্দা জানান।
প্রধান দাবিসমূহ ও সংকটের ক্ষেত্রসমূহ
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রধানত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে:
অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও খাদ্য সংকট: তিউনিসিয়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে। জীবনযাত্রার ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সাথে ভেঙে পড়েছে জনকল্যাণমূলক সরকারি পরিষেবা খাত।
গণতান্ত্রিক ও বিচারিক স্বাধীনতার সংকোচন: ২০১১ সালের জুঁই (জেসমিন) বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নাগরিক স্বাধীনতা প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের একক নীতিমালার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রতিবাদে দেশটির বার অ্যাসোসিয়েশন দেশব্যাপী আদালত বর্জনের ডাক দিয়েছে।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও নাগরিক অধিকার: গত কয়েক মাসে বিরোধী দলীয় নেতা, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এসব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি
২০২১ সালে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ দেশি-বিদেশি সমালোচনার মুখে রয়েছেন। মে ২০২৬-এর এই বিক্ষোভটি মূলত বছরের শুরু থেকে চলমান সরকারবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনেরই অংশ।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বামপন্থী, লিবারেল ও ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে আদর্শগত ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও, সরকারের কর্তৃত্ববাদী নীতির বিরুদ্ধে তারা বর্তমানে একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তার মতে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক দুর্নীতি দূর করতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য ছিল। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির জোড়া ধাক্কায় তিউনিসিয়া বর্তমানে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় পার করছে।


