" " //psuftoum.com/4/5191039 Live Web Directory মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার তেলে ছাড়ের মেয়াদ শেষ: কেন এটি ভারতের জন্য একটি খারাপ খবর? //whairtoa.com/4/5181814
Type Here to Get Search Results !

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার তেলে ছাড়ের মেয়াদ শেষ: কেন এটি ভারতের জন্য একটি খারাপ খবর?

 


ট্রাম্প প্রশাসন গত ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে রাশিয়ার সমুদ্রবাহী তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ শেষ হতে দিয়েছে। এর ফলে এমন একটি ব্যবস্থার অবসান ঘটল, যা ভারতসহ অন্যান্য দেশগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে না পড়ে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার আইনি সুযোগ করে দিয়েছিল।


প্রেক্ষাপট: এই ছাড়টি কী ছিল?


মার্কিন ট্রেজারি (অর্থদপ্তর) ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে একটি ৩০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছিল, যা ৫-১১ মার্চের আগে ট্যাংকারে বোঝাই করা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।

ইরান হরমুজ প্রণালী (যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়) বন্ধ করে দিলে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার স্থিতিশীল করার জন্য ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এটিকে একটি "সুচিন্তিত স্বল্পমেয়াদী কৌশল" হিসেবে চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৭ এপ্রিল এই ছাড়ের মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।


ভারত কেন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে?


ভারত হলো রাশিয়ার সমুদ্রবাহী অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ গ্রাহক। এপ্রিল ও মে মাসে ভারতের তেল কেনা প্রায় রেকর্ড ছুঁয়েছে। এই ছাড়ের সময়কালে ভারতীয় শোধনাগারগুলো প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রাশিয়ান তেলের অর্ডার দিয়েছিল এবং শুধুমাত্র মার্চ মাসেই আমদানি তিনগুণ বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৮% আসছিল রাশিয়া থেকে। রাশিয়ার এই বিপুল পরিমাণ ছাড়যুক্ত 'ইউরাল ক্রুড' ভারতে জ্বালানির মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করেছিল।


এখন কী হবে?


এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করবে। এর ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলোর জন্য পেমেন্ট, শিপিং লজিস্টিকস এবং ট্রেড ফাইন্যান্স অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি বেসেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন: "আমরা রাশিয়ান তেলের ওপর সাধারণ লাইসেন্সটি আর নবায়ন করছি না।" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কারণে ভারতকে এখন বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার মতো জায়গা থেকে তুলনামূলক বেশি দামে তেল কিনতে হতে পারে।

ভারতের জন্য প্রধান ঝুঁকিগুলো:

  • সরবরাহ সংকট: ভারতীয় শোধনাগারগুলো রাশিয়ার যে অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তাতে তাৎক্ষণিক ব্যাঘাত ঘটবে।

  • জ্বালানির মূল্যস্ফীতি: ছাড়যুক্ত রাশিয়ান তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশের অভ্যন্তরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • আর্থিক চাপ: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, তেল সরবরাহে এই ব্যাঘাত ভারতের রাজস্ব ঘাটতিকে (fiscal deficit) আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

  • পেমেন্ট এবং শিপিংয়ে বাধা: নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কারণে ভারতীয় ব্যাংক এবং ট্যাংকার অপারেটররা রাশিয়ান তেলের চুক্তিতে সহায়তা করতে পিছিয়ে আসতে পারে।

  • ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা: ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য কখনো মার্কিন অনুমোদনের ওপর "নির্ভরশীল" ছিল না। কিন্তু এখন নতুন করে তেল কেনা সরাসরি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বহন করবে।

ভারত সরকার অবশ্য দাবি করছে যে, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকলে এই ধাক্কা কিছুটা সামলানো যাবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিবর্তনটি মোটেও সহজ বা সস্তা হবে না।

Top Post Ad

Below Post Ad

Hollywood Movies