নিজস্ব প্রতিনিধি: পুনর্বাসনের কোনো রকম ব্যবস্থা না করেই শিয়ালদহ সাউথ প্ল্যাটফর্মে চালানো হলো অনৈতিক হকার উচ্ছেদ অভিযান। আর এই উচ্ছেদের জেরে কার্যত পথে বসেছেন হাজার হাজার মানুষ। উচ্ছেদ অভিযানের সময় দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে থাকা সমস্ত মালপত্র তছনছ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন আক্রান্ত হকারদের একাংশ, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন শাসক বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কট্টর সমর্থক।
এমনই এক ভুক্তভোগী হকারের নাম পীযূষ হালদার। পেশায় শিয়ালদহের একজন সাধারণ হকার পীযূষবাবু ২০১৭ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিজেপি করে আসছিলেন। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে, বোম-গুলির ভয় উপেক্ষা করে দলের জন্য কাজ করেছেন বিগত বছরগুলোতে। কিন্তু আজ উচ্ছেদ অভিযানের পর নিজের রুটি-রুজি হারিয়ে তিনি তীব্র অনুশোচনায় ভুগছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে পীযূষ হালদার বলেন:
"ধন্যবাদ পেটে লাথি মারার জন্য বিজেপি সরকার। ২০১৭ সাল থেকে পকেটের টাকা দিয়ে পার্টি করেছি, বোম গুলির ভয় না পেয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় নিয়ে এসে দেখছি ভুল করেছি। এই সরকার গরিব দরদী নয়, এটা বুঝে গেছি। ভুল বলে থাকলে ক্ষমা প্রার্থী, তবে পেটে টান পড়লে আশা করি সত্যিটা বার হয়ে আসে, সেটাই বার হলো। আজ থেকে ত্যাগ করলাম এই বিজেপি পার্টিকে।"
পাশে থাকার বার্তা সিপিআইএমের
পীযূষ হালদার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নন, তিনি একটি উদাহরণ মাত্র। উচ্ছেদের নামে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারার এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাম নেতৃত্ব। সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজেপির এই হকার উচ্ছেদ নীতির কারণে আক্রান্ত এবং কাজ হারানো সমস্ত হিন্দু তথা সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের পাশে সর্বতোভাবে রয়েছে সিপিআইএম। পুনর্বাসন ছাড়া কোনোভাবেই এই অমানবিক উচ্ছেদ মেনে নেওয়া হবে না এবং আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে দল সবসময় পাশে থাকবে।



