ভিউজ নাও ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের Noida-য় শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসে শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনার পর থেকে সমাজকর্মী, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা এবং শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১০ এপ্রিল, যখন নয়ডার ফেজ-২ শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করা এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ১৩ এপ্রিল আন্দোলন হঠাৎই হিংসাত্মক রূপ নেয়। একাধিক কারখানায় ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন লাগানো এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, শতাধিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু পুলিশকর্মী আহত হন।
এই ঘটনার পর তদন্তে নেমে পুলিশ দাবি করে, তিনটি সংগঠিত বামপন্থী গোষ্ঠী এই আন্দোলনের পিছনে সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে “মজদুর বিগুল দस्ता” নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হন একাধিক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আদিত্য আনন্দ, যাকে পুলিশ “মূল চক্রী” বলে দাবি করেছে। তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি রেল স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তার হন শ্রমিক পত্রিকা মজদুর বিগুল-এর সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ও লেখক সত্যম বর্মা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও সমাজকর্মী আকৃতি চৌধুরী, শ্রমিক সংগঠক রূপেশ রায় এবং হিমাংশু ঠাকুর।
মে মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন সত্যম বর্মা ও আকৃতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA) প্রয়োগ করে নয়ডা পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা হিংসা, অগ্নিসংযোগ এবং অশান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাংশ এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে। দিল্লির Jantar Mantar-এ বিক্ষোভ দেখিয়ে আন্দোলনকারীরা “Repeal NSA” এবং “Free Satyam Verma and Akriti Choudhary” স্লোগান তোলেন।
এদিকে মামলায় হস্তক্ষেপ করেছে Supreme Court of India। আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে আদিত্য আনন্দ ও রূপেশ রায়কে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। শুনানির সময় বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “ওরা জঙ্গি নয়”, নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে।
ঘটনায় আরও চাঞ্চল্যকর মোড় আসে মে মাসের শেষদিকে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মী সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে দাবি করেন, ১৩ এপ্রিল বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য যে পোস্টগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলি আসলে এক পুলিশ আধিকারিকের গাড়িচালক অনিল কুমার এবং এক সাব-ইন্সপেক্টর বীনার অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছিল। পরে পুলিশ অনিল কুমারকে গ্রেপ্তার করলেও, তারা দাবি করেছে যে তাঁর সঙ্গে কোনও উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সরাসরি যোগ নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক আন্দোলন, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের দমননীতি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।


