চেন্নাই, ১১ মে ২০২৬: তামিলনাড়ু বিধানসভায় আজ এক নজিরবিহীন ও কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। প্রয়োজনীয় 'ইলেকশন সার্টিফিকেট' বা নির্বাচনের শংসাপত্র সাথে না থাকায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে পারলেন না রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রী এস. কীর্তনা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার বিধানসভার কার্যক্রম শুরু হলে নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিধানসভার প্রধান সচিব কে. শ্রীনিবাসন যখন মাইক মারফত কীর্তনার নাম ঘোষণা করেন, তিনি মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। প্রথা অনুযায়ী, শপথ নেওয়ার আগে জয়ী হওয়ার শংসাপত্র জমা দিতে হয়। কিন্তু সচিবের কাছে সেই শংসাপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
বিধানসভার এক প্রবীণ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে (PTI) জানিয়েছেন:
"মনে হচ্ছে ওনার কাছে সেই মুহূর্তে নির্বাচনের শংসাপত্রটি ছিল না। যেহেতু তিনি সেটি জমা দিতে পারেননি, তাই নিয়ম অনুযায়ী তাকে শপথ নিতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শংসাপত্র জমা দিলে যেকোনো সময়ই তিনি বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে পারবেন।"
উল্লেখ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, শপথ গ্রহণের সময় এই শংসাপত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
কে এই মন্ত্রী কীর্তনা?
২৯ বছর বয়সী এস. কীর্তনা মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে:
রেকর্ড জয়: দীর্ঘ সাত দশক পর তিনি শিবকাশী (Sivakasi) কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত প্রথম নারী বিধায়ক।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ১৯৯৬ সালে বিরুধুনগরে জন্ম নেওয়া কীর্তনা পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে বিএসসি এবং পরিসংখ্যানে (Statistics) এমএসসি করেছেন।
নির্বাচনী ফলাফল: ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস প্রার্থী অশোকান জি-কে ১১,৬০০-র বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
আগে মন্ত্রী হিসেবে শপথ, এখন বিধায়ক পদে বাধা
মজার বিষয় হলো, বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে না পারলেও গত ১০ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দল টিভিকে (TVK) সরকারের প্রথম তালিকার একমাত্র নারী মন্ত্রী তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিধানসভা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি মাত্র। কীর্তনা তার নির্বাচনের শংসাপত্র পেশ করলেই বিধানসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন। তবে একজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রে এ ধরনের নথিপত্র ভুলে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা চর্চা শুরু হয়েছে।


