নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানা ও ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)-র জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সোমবার রাতে তাঁকে পিএমএলএ (PMLA) আইনে গ্রেফতার করা হয়। মূলত 'সোনা পাপ্পু' ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে নেমে এই দুঁদে পুলিশ আধিকারিককে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও অভিযান
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বালিগঞ্জ এলাকার ত্রাস বলে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র সিন্ডিকেটের সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গভীর আর্থিক যোগসাজশ ছিল। দক্ষিণ কলকাতায় জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং চাঁদাবাজির যে চক্র সোনা পাপ্পু চালাত, তার রক্ষাকর্তা হিসেবে এই আইপিএস স্তরের আধিকারিক কাজ করতেন বলে অভিযোগ।
এর আগে ১৮ ও ১৯ এপ্রিল শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বাসভবন ও সংলগ্ন একাধিক ফ্ল্যাটে একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। একই সময়ে ব্যবসায়ী জয় কামডার বেহালার বাড়ি থেকে ১.২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। শান্তনু বারবার হাজিরা এড়ানোয় গত ৫ মে তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশও জারি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার নেপথ্যে যা রয়েছে
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আড়ালে সোনা পাপ্পু যে তোলাবাজির সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল, সেই কালো টাকা সাদা করার জন্য একাধিক শেল কোম্পানি বা ভুয়ো সংস্থা ব্যবহার করা হত। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এক সময় কালীঘাট থানার ওসি থাকাকালীন এই চক্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ইডি-র অভিযানে ইতিপূর্বেই একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি এবং একটি মার্কিন রিভলভার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই গ্রেফতারি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ইডি-র দাবি, এই চক্রের সঙ্গে আরও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে, যা আগামী দিনে তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করবে।
শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে মঙ্গলবার বিশেষ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট।


