নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিলজলা-টপসিয়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মঙ্গলবার সকাল থেকেই টপসিয়ার বিতর্কিত ‘ডেল্টা লেদার ফ্যাক্টরি’-সহ সংলগ্ন এলাকার অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে শুরু করল বুলডোজার। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে সুর চড়িয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
সম্প্রতি টপসিয়ার ওই চামড়া কারখানায় বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় দুইজনের। অভিযোগ ওঠে, কোনো রকম অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ঘিঞ্জি এলাকায় বেআইনিভাবে চলছিল এই কারখানা। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই আজ বিশাল পুলিশবাহিনী ও পুরসভার আধিকারিকরা জেসিবি নিয়ে এলাকায় পৌঁছান এবং অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দেন।
“তৃণমূল শুধু প্রচার চাইছে”, তোপ নওশাদের
এই উচ্ছেদ অভিযান এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তিনি বলেন:
“তৃণমূল নেতৃত্ব এখন আদালতে গিয়ে সস্তার প্রচার চাইছে। কিন্তু যখন অগ্নিকাণ্ড ঘটল বা যখন কারখানাটি অবৈধভাবে চলছিল, তখন তাদের দেখা মেলেনি। তারা একবারের জন্যও ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন মনে করেনি।”
নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলের ছত্রছায়াতেই এই অবৈধ কারখানার রমরমা ব্যবসা চলেছে। এখন দুর্ঘটনার দায় এড়াতে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে, যাকে তিনি ‘প্রচারমূলক রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে রাজনৈতিক সংঘাত
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি সরকার। সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে, বিরোধীদের একাংশ একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও নওশাদ সিদ্দিকীর মতো নেতারা তৃণমূলের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে সরব হয়েছেন।
টপসিয়ার এই ঘটনায় যেমন নিরাপত্তার অভাব ও প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন উঠে এসেছে, তেমনই নওশাদের এই আক্রমণ আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরেও যে উত্তাপ বাড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এক নজরে মূল পয়েন্ট:
ঘটনাস্থল: টপসিয়া, কলকাতা।
কারণ: অবৈধ চামড়া কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মৃত্যু।
অ্যাকশন: প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানে অবৈধ কাঠামো ধ্বংস।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলকে ‘প্রচারসর্বস্ব’ বলে আক্রমণ নওশাদ সিদ্দিকীর।


