ফলতা, পশ্চিমবঙ্গ — ব্যাপক গোলযোগ ও কারচুপির অভিযোগে স্থগিত হওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা (১৪৪) বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক পারদ চড়ছে এলাকায়। বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) (CPI-M) প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি তাঁর প্রচার অভিযানকে আরও নিবিড় করেছেন এবং ভোটারদের মধ্যে থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে খবর।
প্রার্থী পরিচিতি: কে এই শম্ভুনাথ কুর্মি?
শম্ভুনাথ কুর্মি মূলত একজন সমাজকর্মী এবং বামপন্থী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতা। নির্বাচনী হলফনামা ও স্থানীয় সূত্রে তাঁর সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো:
বয়স: ৬১ বছর।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক পাস।
পেশা: সমাজসেবা ও সামাজিক আন্দোলন।
সম্পত্তি: তাঁর স্বঘোষিত মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯.৫ লক্ষ টাকা।
রাজনৈতিক অবস্থান: দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় স্তরে মানুষের অভাব-অভিযোগ নিয়ে কাজ করা এই নেতা এবার বামফ্রন্টের তুরুপের তাস।
কুড়মি আবেগ ও রাজনৈতিক কৌশল
ফলতা কেন্দ্রে শম্ভুনাথ কুর্মিকে প্রার্থী করার পেছনে বামফ্রন্টের একটি বড় কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিনি কুড়মি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। উল্লেখ্য যে, কুড়মিরা দীর্ঘকাল ধরে তফসিলি উপজাতি (ST) মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। ১৯৫০ সালে তাঁদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। শম্ভুনাথ কুর্মিকে প্রার্থী করে বামফ্রন্ট এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভকে নিজেদের পক্ষে সংহত করতে চাইছে।
প্রচারের মূল সুর ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
নিবিড় জনসংযোগ: শম্ভুনাথ কুর্মি ও বামফ্রন্টের কর্মীরা প্রতিটি বুথে বুথে পদযাত্রা ও ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন।
প্রধান ইস্যু: বেকারত্ব, গ্রামীণ পরিকাঠামোর অভাব এবং গত দফার নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণের বিষয়গুলিকেই হাতিয়ার করেছে বাম শিবির।
ইতিবাচক সাড়া: নির্বাচনী ময়দান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের মধ্যে শম্ভুনাথ কুর্মির প্রতি একটি জোরালো সহমর্মিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের অভিজ্ঞতার পর ভোটাররা এবার শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মত প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রেক্ষাপট: কেন এই পুনর্নির্বাচন
গত দফার নির্বাচনে ফলতার ২৮৫টি বুথেই ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনের (Re-polling) নির্দেশ দেয়। শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে শম্ভুনাথ কুর্মি ফলতায় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।
২১ মে’র ব্যালট যুদ্ধে শম্ভুনাথ কুর্মি তাঁর এই ইতিবাচক জনমতকে জয়ে রূপান্তরিত করতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।


